দুবার চুরি হওয়া বিশ্বকাপ ট্রফিটির খোঁজ মেলেনি আজও

· Prothom Alo

জুলে রিমে ট্রফি

আপনি কি জানেন, বিশ্বকাপের প্রথম ট্রফিটি আজও নিখোঁজ! ১৯৮৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো চুরি হওয়ার পর ট্রফিটির আর খোঁজ মেলেনি। কোন দেশের কোন শহরে, কার বাড়িতে কিংবা কোন গুহায় সেই মহামূল্যবান ট্রফিখানা লুকানো আছে, কে জানে!
তবে প্রচলিত আছে, চুরির পর ট্রফিটি গলিয়ে ফেলা হয়েছিল। এই ধারণার পক্ষেও অবশ্য খুব শক্তপোক্ত প্রমাণ নেই। অথচ এই একই ট্রফি এর আগে একবার গোটা একটা বিশ্বযুদ্ধ পার করে দিয়েছিল কারও বিছানার নিচে, জুতার বাক্সে লুকিয়ে! আরেকবার চুরি হয়েও ফিরে এসেছিল একটা কুকুরের সুবাদে। একটু খুলেই বলি চলুন।

জুতার বাক্সে বিশ্বযুদ্ধ পার

১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেই আসরে ট্রফিটার নাম প্রথমে রাখা হয়েছিল ‘ভিক্টরি’। তবে লোকমুখে পরিচিত ছিল ‘কাপ দ্যু মঁদ’ বা বিশ্বকাপ নামে। ১৯৪৬ সালে ফিফার ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সভাপতি জুলে রিমের সম্মানে এর নাম বদলে রাখা হয় ‘জুলে রিমে ট্রফি’।

Visit afnews.co.za for more information.

হুমায়ূন আহমেদের দেবী নিয়ে থিসিস করেছিলেন প্রিন্সটনের এই গবেষক

পরপর দুটো আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১৯৩৮ সালে ট্রফিটা যায় ইতালির কাছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে নাৎসিরা এটা দখল করে নিতে পারে এই আশঙ্কায় তখনকার ইতালিয়ান ফুটবল কর্মকর্তা ও ফিফার সহসভাপতি অত্তোরিনো বারাসি গোপনে রোমের একটা ব্যাংকের ভল্ট থেকে ট্রফিটা সরিয়ে নিজের বিছানার নিচে একটা জুতার বাক্সে লুকিয়ে রাখেন। যুদ্ধের পুরো সময় ট্রফিটি সেখানেই ছিল। যুদ্ধ শেষে এটি অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয় ফিফাকে।

ধন্যবাদ পিকলস

১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্ট শুরুর চার মাস আগে লন্ডনের এক প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছিল জুলে রিমে ট্রফি। কিন্তু ২০ মার্চ হঠাৎ দেখা গেল, ট্রফিটি নেই। শুরু হলো তোলপাড়। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড তদন্তে নামল, চোরকে ধরতে ফাঁদও পাতা হলো, কিন্তু নিখোঁজ ট্রফির কোনো হদিস মিলল না।
২৭ মার্চ, ঠিক এক সপ্তাহ পর ডেভিড করবেট নামে এক ব্যক্তি তাঁর পোষা কুকুর পিকলসকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। পথে একটি গাড়ির পাশে খবরের কাগজ ও দড়িতে মোড়ানো একটি প্যাকেট শুঁকে অস্বাভাবিক আগ্রহ দেখাতে শুরু করে পিকলস। কৌতূহলী হয়ে করবেট প্যাকেটটি খুলে দেখেন—ভেতরে সেই নিখোঁজ জুলে রিমে ট্রফি!
এই আবিষ্কারের পর পিকলস রাতারাতি ইংল্যান্ডজুড়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন—সবখানেই জায়গা করে নেয় কুকুরটি। এমনকি ইংল্যান্ড যখন সেবার চ্যাম্পিয়ন হলো, তখন রাজকীয় ভোজে পিকলসকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

‘অ্যাকাউন্টিং ক্লাসের ছেলেটা ৬ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমে গেছে!’

আবারও চুরি, ট্রফিটা এখন কোথায়?

বিশ্বকাপের নিয়ম ছিল, কোনো দেশ তিনবার চ্যাম্পিয়ন হলে জুলে রিমে ট্রফি স্থায়ীভাবে তাদের মালিকানায় চলে যাবে। ১৯৭০ সালে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রথম দেশ হিসেবে ব্রাজিল স্থায়ীভাবে ট্রফিটা পেয়ে যায়। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের দপ্তরে বুলেটপ্রুফ কাচে রাখা ছিল সেটি।
কিন্তু ১৯৮৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাতে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তর থেকে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। পরে চুরির ঘটনায় জড়িত চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও ট্রফিটির আর কোনো খোঁজ মেলেনি। অনেকের বিশ্বাস, ট্রফিটি হয়তো এখনো কোথাও লুকিয়ে আছে। কিন্তু এই তত্ত্বের পক্ষেও নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ১৯৮৩ সালের সেই রাতের পর ফুটবলের সবচেয়ে আইকনিক ট্রফিগুলোর একটির পরিণতি ইতিহাসের পাতায় আজও এক অমীমাংসিত রহস্য হয়েই রয়ে গেছে।

Read full story at source