মেসির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন আলোচিত এই অভিনেত্রী

· Prothom Alo

লিওনেল মেসির সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন অনেক আর্জেন্টাইনেরই থাকে। সেই তালিকায় আছেন হলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী আনিয়া টেইলর–জয়। ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর গভীর টান। বিশ্বজোড়া খ্যাতি পাওয়ার পরও তিনি বারবার নিজের আর্জেন্টাইন পরিচয়কে সামনে এনেছেন। মেসির প্রতি তাঁর মুগ্ধতা, আর্জেন্টিনার জার্সি পরে বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া কিংবা স্প্যানিশ ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলা—সব মিলিয়ে তিনি হলিউডের গ্ল্যামার–জগতের এক ব্যতিক্রমী তারকা।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

মায়ামিতে জন্ম, হৃদয়ে আর্জেন্টিনা
অনেকেই ভাবেন, আনিয়া টেইলর–জয় জন্মসূত্রেই আর্জেন্টাইন। বাস্তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে জন্ম নিলেও জীবনের প্রথম ছয় বছর কেটেছে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে। তাঁর বাবা আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত এবং মা ব্রিটিশ–স্প্যানিশ পরিবার থেকে আসা। শৈশবের ভাষা ছিল স্প্যানিশ। পরে পরিবার লন্ডনে চলে গেলে তিনি এতটাই কষ্ট পেয়েছিলেন যে দীর্ঘদিন ইংরেজি শিখতেই চাননি। আশা করেছিলেন, আবার আর্জেন্টিনায় ফিরে যাবেন।

এই শিকড়ই আনিয়াকে আজও আর্জেন্টিনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে রেখেছে।

মেসির প্রতি মুগ্ধতা
আর্জেন্টিনার ফুটবল মানেই লিওনেল মেসি। আনিয়া বহুবার সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা বলেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি আর্জেন্টাইন ফুটবল নিয়ে কথা বলেছেন এবং মেসির প্রতি নিজের শ্রদ্ধাও প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মেসির সঙ্গে দেখা করতে চাই। গত বিশ্বকাপের সময় আমি লস অ্যাঞ্জেলেসে ছিলাম। সেই ম্যাচের কথা মনে পড়লে এখনও রোমাঞ্চিত হই। আমি এক জায়গায় বসে থাকতে পারিনি। এদিক-ওদিক হাঁটছিলাম। লস অ্যাঞ্জেলেসে তখন ভোর ছয়টার মতো বাজে। আমি ম্যাচ দেখার জন্য বন্ধুদেরও ঘুম থেকে তুলে দিয়েছিলাম। কী অসাধারণ এক ম্যাচ ছিল সেটা!’

আনিয়া টেইলর–জয়। রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র–প্যারাগুয়ে ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দর্শকদের নজর কেড়েছিল তাঁর পোশাক। স্টেডিয়ামে তিনি হাজির হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি পরে। তাঁর স্বামীও ‘আর্জেন্টিনা’ লেখা পোশাক পরেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে যায়।
আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা তখন বলছিলেন, ‘হলিউডের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন হয়েও আনিয়া আমাদেরই একজন।’

স্কুলছাত্রী থেকে হলিউড তারকা
লন্ডনের রাস্তায় বের হয়ে মডেলিং এজেন্টের নজরে পড়েছিলেন আনিয়া। সেখান থেকেই শুরু। পরে অভিনয়ে সুযোগ পান। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া হরর চলচ্চিত্র ‘দ্য উইচ’ আনিয়াকে প্রথম আলোচনায় আনে। এরপর একে একে অভিনয় করেন ‘স্লিট’, ‘গ্লাস’, ‘এমা’সহ আরও অনেক ছবিতে।
তবে আনিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২০ সালে।

আনিয়া টেইলর–জয়। রয়টার্স

‘দ্য কুইন্স গ্যাম্বিট’ বদলে দেয় সব
নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ ‘দ্য কুইন্স গ্যাম্বিট’–এ দাবাড়ু বেথ হারমনের চরিত্রে অভিনয় করে আনিয়া বিশ্বব্যাপী তারকা খ্যাতি পান। সিরিজটি শুধু দর্শকপ্রিয়ই হয়নি; বরং তাঁকে এনে দেয় গোল্ডেন গ্লোব ও স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডের মতো সম্মান।
অনেক সমালোচকের মতে, এই সিরিজের পর আনিয়া শুধু জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন; বরং নিজের প্রজন্মের সবচেয়ে শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীদের একজন হয়ে ওঠেন।

বস্তি থেকে বিশ্বজয়, ডিয়েগো ম্যারাডোনার অবিশ্বাস্য গল্প দেখেছিলেন কি

‘ফিউরিওসা’ থেকে ‘সুপার মারিও’
এরপর আনিয়া অভিনয় করেন ‘দ্য মেনু’, ‘ফিউরিওসা: আ ম্যাড ম্যাক্স সাগা’ ইত্যাদি বড় প্রকল্পে। একই সঙ্গে অ্যানিমেশন–জগতেও পা রাখেন ‘দ্য সুপার মারিও ব্রস মুভি’ দিয়ে।

আর্জেন্টাইন পরিচয় লুকান না
হলিউডে লাতিন আমেরিকান পরিচয় নিয়ে অনেক সময় জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু আনিয়া কখনোই নিজের আর্জেন্টাইন শিকড় আড়াল করেননি। স্প্যানিশ ভাষায় সাক্ষাৎকার দেন, আর্জেন্টিনার উচ্চারণে কথা বলেন এবং সুযোগ পেলেই দেশের কথা বলেন। এমনকি বিশ্বকাপের সময় তাঁর আর্জেন্টিনার জার্সি পরা ছবি নতুন করে আর্জেন্টাইনদের হৃদয়ের মানুষ বানিয়েছে।

সম্প্রতি জাপান গ্রাঁ প্রিতে এক আর্জেন্টাইন সাংবাদিকের সঙ্গে স্প্যানিশে কথা বলেও আনিয়া আলোচনায় এসেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও লাখো মানুষ দেখেছে।

আইএমডিবি, পেজ সিক্স অবলম্বনে

Read full story at source