বৃষ্টির সময় মুমিনের জন্য ৫ আমল
· Prothom Alo

বৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহ–তাআলা মৃতপ্রায় ভূমিকে সজীব করে তোলেন। ফলে প্রকৃতি নব–উদ্যমে জেগে ওঠে। আকাশ থেকে অঝোর ধারায় নেমে আসা এই বৃষ্টির মাঝে জ্ঞানবান চিন্তাশীলদের জন্য রয়েছে অনেক শিক্ষা, আছে সীমাহীন চিন্তার খোরাক।
Visit betsport24.es for more information.
পবিত্র কোরআন মাজিদে বলা হয়েছে, ‘তাঁর (আল্লাহ) একটি নিদর্শন এই যে তিনি তোমাদেরকে দেখান বিজলী, ভয় ও আশা সঞ্চারকরূপে এবং আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন, অনন্তর তা দ্বারা শুষ্ক নির্জীব ভূমিকে সজীবতা দান করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়। (সুরা রুম, আয়াত ২৪)
অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘যদি আপনি তাদেরকে (মক্কার মুশরিকদের) জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করে, অতঃপর তা দ্বারা ভূমিকে নির্জীব হয়ে যাওয়ার পর সঞ্জীবিত করে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বোঝে না। (সুরা আনকাবুত, আয়াত ৬৩)
এভাবে পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে বৃষ্টির উপকারিতা সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। এই বৃষ্টির সময় একজন মুমিনের কিছু করণীয় আমল রয়েছে, যার মাধ্যমে একজন মুমিন মহান আল্লাহর এই বিশেষ নিয়ামতকে যেমন উপভোগ করতে পারবে, তেমনি এই সময়টুকু তাঁর ইবাদতে শামিল হবে।
পুণ্যবানরা কেন প্রভুর সান্নিধ্যে যেতে ব্যাকুল থাকেন১. আল্লাহর কাছে রহমত প্রার্থনা করা
বৃষ্টি সাধারণত রহমতের বার্তা বয়ে আনলেও মাঝে মাঝে এই বৃষ্টিই আবার দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টি দেখলেই মহান আল্লাহর দরবারে উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন বৃষ্টি হতো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সয়্যিবান নাফিআহ’, (অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি এ বৃষ্টিকে প্রবহমান এবং উপকারী করে দাও)। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৫২৩)
কখনো ঝোড়ো হাওয়া বইলে আল্লাহর দিকে গভীরভাবে মনোনিবেশ করে তাঁর ভয়ে কম্পমান থাকা উচিত। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি এ বিষয়ে তাঁকে (নবীজিকে) জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার আশঙ্কা হয় যে আমার উম্মতের ওপর কোনো ‘আজাব’ এসে পতিত হয় নাকি। তিনি বৃষ্টি দেখলে বলতেন, ‘রহমাতান’ এটা (আল্লাহর) রহমত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৬৯)
২. অতিবৃষ্টি থেকে বাঁচতে দোয়া
কখনো কখনো অতিবৃষ্টির কারণে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কখনো আবার অতিবৃষ্টির কারণে বন্যায় সবকিছু তলিয়ে যায়। তাই অতিবৃষ্টি থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে দোয়া করার বিকল্প নেই।
রাসুল (সা.) আমাদের দোয়া শিখিয়েছেন। অতিবৃষ্টিতে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন, ‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা’ অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি বৃষ্টি আমাদের আশপাশে বর্ষণ করো, আমাদের ওপরে নয়। (নাসায়ি, হাদিস: ১৫২৭)
উল্লেখ্য, এখানে এটি উদ্দেশ্য নয় যে আমাদের পাশের এলাকা ডুবিয়ে দাও, বরং উদ্দেশ্য হলো, জনবসতিহীন কোথাও বৃষ্টি সরিয়ে নাও।
বিপদে মুমিনের প্রথম করণীয় কী৩. বৃষ্টির পানি স্পর্শ করা:
বৃষ্টির সময় শরীরে বৃষ্টির পানির স্পর্শ গ্রহণ করা ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় অভ্যাস।
আনাস (রা.) বলেন, আমরা নবীজির সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় বৃষ্টি নামল। তখন নবীজি তাঁর গায়ের কাপড় খুলে দিলেন। ফলে এতে বৃষ্টির পানি পৌঁছাল। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, এরূপ কেন করলেন? তিনি বলেন, কেননা এটা (এই পবিত্র পানি) মহান আল্লাহর কাছ থেকে আসার সময় খুবই অল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৬৮)
৪. বৃষ্টি চলাকালে দোয়া করা
আকাশ ভেঙে যখন বৃষ্টি নামে তখন আমাদের উচিত মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে দোয়া করা। কেননা বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, বৃষ্টির সময়ের দোয়া কবুল হয়ে থাকে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৪০)
৫. বৃষ্টি শেষে দোয়া পড়া
বৃষ্টি থেমে গেলে আল্লাহর শোকর আদায় করে রাসুলের শিখানো দোয়া পড়া উচিত। তিনি সাহাবিদের একটি বিশেষ দোয়া পড়ার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন, দোয়াটি হলো—‘মুতিরনা বিফাদলিল্লাহি ওয়া রহমাতিহ।’ এর অর্থ হলো, আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৩৮)
আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম টঙ্গী