চট্টগ্রামে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ উপভোগ করলেন বন্ধুরা

· Prothom Alo

চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়। এটি একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম, যা মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও সামাজিক বাস্তবতাকে দৃশ্যমান করে তোলে। সাহিত্য, নাটক, সংগীত, চিত্রকলা—বিভিন্ন শিল্পধারার সম্মিলনে চলচ্চিত্র এক অনন্য অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে, যা একই সঙ্গে দর্শন, শিক্ষা ও বিনোদন হিসেবে কাজ করে। তাই চলচ্চিত্রকে বোঝা মানে কেবল একটি গল্প দেখা নয়; বরং এর ভাষা, নির্মাণশৈলী ও প্রভাব বিশ্লেষণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম বন্ধুসভা বিগত কয়েক বছর ধরে বন্ধুদের নিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করে আসছে। প্রতিবার বন্ধুসভাকক্ষে প্রদর্শনী হলেও এবার কিছুটা ব্যতিক্রমস্বরূপ সিনেমা হলে গিয়ে চলচ্চিত্র উপভোগ করেছেন বন্ধুরা। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে ছিল নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। যাঁর গত বছরের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘উৎসব’ও সবার মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। ৩ মে নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার ‘সুগন্ধা’ সিনেমা হলে এই চলচ্চিত্র উপভোগ করতে যান বন্ধুরা।

Visit palladian.co.za for more information.

একটি ট্রেনের বগিতে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জীবনের সহজ মেলবন্ধন ও মানবিকতার গল্প ফুটে উঠেছে এই চলচ্চিত্রে। বিশেষ করে ট্রেনে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর জীবন বাঁচাতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করেছে। পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিদ্রূপের অংশ হিসেবে দুর্নীতিবাজ শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপ সিনেমাটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। একজন সন্তান হারানো বাবার জীবনও উঠে এসেছে এটিতে। প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৩ মিনিটের সম্পূর্ণ চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে প্রতিটি মানুষের জীবনের গল্প, যা আলাদা হলেও কীভাবে যেন প্রতিটি গল্প একটি আরেকটির সঙ্গে জড়িত। সিনেমার ছোট শিশুটির সাবলীল অভিনয় দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। পুরো সিনেমায় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ছেলে নুহাশ হুমায়ূনকে এই চলচ্চিত্রটির গল্পে কণ্ঠ দিতে দেখা গেছে, যা এখানে এক আবহ তৈরি করে। এমন গোছানো ও সুস্থ বিনোদনের সৌন্দর্য যেন দর্শকদের মনে করিয়ে দিচ্ছিল পর্দার আড়ালে হুমায়ূন আহমেদ নিজেই উপস্থিত আছেন।

তা ছাড়া চলচ্চিত্রে আইয়ুব বাচ্চুর বিখ্যাত গান ‘উড়াল দেবো আকাশে’, রবীন্দ্রসংগীত ‘মাঝে মাঝে তব’ এবং অর্থহীন ব্যান্ডের ‘চাইতেই পারো’ গানগুলোর ব্যবহার যেন দর্শকদের নস্টালজিক করে তোলে। এতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, আজমেরি হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূর, শরীফুল রাজসহ একঝাঁক জনপ্রিয় তারকা। শেষাংশে অভিনেতা ফারুক আহমেদ ও ডা. এজাজুল ইসলামের উপস্থিতি পর্দায় বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করে। দর্শকদের মনে করিয়ে দেয় সোনালি অতীতে তাঁদের সেই জুটি।

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা।

প্রদর্শনী শেষে চলচ্চিত্রটি নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করে সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান বলেন, ‘চলচ্চিত্র শুধু বিনোদন নয়, বরং সমাজের দর্পণ। “বনলতা এক্সপ্রেস” সিনেমায় আমরা সেই দর্পণটিই দেখতে পেয়েছি। ট্রেনের একটি সাধারণ বগিতে কীভাবে অসাধারণ সব মানবিক সম্পর্কের সৃষ্টি হয় এবং সংকটে মানুষ কীভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তা এই সিনেমায় নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। যান্ত্রিক জীবনের বাইরে বন্ধুদের নিয়ে এমন একটি সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র উপভোগ করা সত্যিই তৃপ্তিদায়ক।’

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরী বলেন, ‘তানিম নূর পরিচালিত কিছু কাজ যেমন “কাইজার”, “উৎসব” দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় এই সিনেমা দেখা। হাস্যরস আর চমৎকার কাহিনির সংমিশ্রণে পুরো সিনেমাটি ছিল দারুণ উপভোগ্য। সিনেমা দেখে যেন শান্তি পেলাম।’

আয়োজনের সমন্বয়কারী ছিলেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরী এবং দপ্তর সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রচার সম্পাদক সাকিব জিশান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিথি তালুকদার, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আমেনা আক্তার, কার্যনির্বাহী সদস্য শারমিন ইসলাম, তাজরিয়া রশিদ, বন্ধু প্রান্তিকা ভৌমিক, নওরিন জান্নাত, সায়মা কুদ্দুস, আশরাফুর রহমান ও ফারজানা শাহীন।

বন্ধু, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা

Read full story at source