সৌদির জেদ্দায় চার দিনব্যাপী ‘৪র্থ সৌদি ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্স এক্সপো ২০২৬’
· Prothom Alo

সৌদি আরবের জেদ্দায় চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘চতুর্থ সৌদি ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্স এক্সপো ২০২৬’। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র সৌদি আরবের জেদ্দায় ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘চতুর্থ সৌদি ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্স এক্সপো ২০২৬’। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সক্ষমতা, টেকসই উৎপাদন প্রযুক্তি এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরতে এবারের এক্সপোতে অংশ নিয়েছে দেশের স্বনামধন্য ১১টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।
Visit esporist.org for more information.
বর্ণাঢ্য উদ্বোধন ও কূটনৈতিক তৎপরতা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক অংশের উদ্বোধন করেন জেদ্দা চেম্বার অব কমার্সের ভাইস চেয়ারম্যান ইমাদ মোহাম্মদ আল আবউদ। পরে মেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’-এর ফিতা কেটে যৌথভাবে উদ্বোধন করেন জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সৌদি রিজিওনাল বিজনেস কাউন্সিল ফর সাউথইস্ট এশিয়ার এক্সিকিউটিভ বোর্ড সদস্য ও সৌদি ফেডারেশন অব চেম্বার্সের সদস্য ওসামা কোউকানদি।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) সৈয়দা নাহিদা হাবিবা, বাংলাদেশ ইনভেস্টর ফোরামের সভাপতি আবদুর রহমান, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সৌদি আমদানিকারক, প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই আয়োজনে ২২টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে, বিভিন্ন দেশের ৫৫০টির বেশি স্টল এখানে আছে। আমরা প্রত্যাশা করছি সৌদি বাজারসহ এখানে গ্লোবাল মার্কেটকে যেন আমাদের পণ্য দিয়ে মন জয় করতে পারি।’
পিরামিডস গ্রুপের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের এক্সপোতে বিশ্বের ২৫টির বেশি দেশের প্রায় ১০ হাজার বাণিজ্য দর্শনার্থী ও বৈশ্বিক ক্রেতা অংশ নিচ্ছেন। প্রদর্শনীতে রয়েছে ৫৫০টির বেশি বুথ। এর মধ্যে বাংলাদেশের সুসজ্জিত প্যাভিলিয়ন আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ইউরোপের অভিজ্ঞতা ও সবুজ শিল্পের বার্তা
মেলার বিশেষ আয়োজন হিসেবে ‘ফ্রম হেরিটেজ টু হাইটেক সাসটেইনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে উচ্চমানের পোশাক সরবরাহের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) সৈয়দা নাহিদা হাবিবা।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এইচ ই এম জে এইচ জাবেদ, ইপিবির পরিচালক মাহমুদুল হাসান, কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মাযহারুল ইসলাম এবং বেল বটম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান।
আলোচনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা এবং টেকসই শিল্পায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক এলইইডি-সার্টিফায়েড সবুজ পোশাক কারখানার উপস্থিতিও বাংলাদেশের শিল্প খাতের পরিবেশবান্ধব সক্ষমতার প্রতিফলন।
বক্তারা আরও বলেন, ইউরোপীয় বাজারে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-কেন্দ্রিক ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে বাংলাদেশ প্রস্তুত।
পণ্য প্রদর্শন ও বিটুবি আলোচনার সুযোগ
এক্সপোর বিশেষ সেশনে অংশগ্রহণকারী ১১টি প্রতিষ্ঠান একক ও যৌথভাবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রোফাইল, আধুনিক গার্মেন্টস ও ফ্যাশনওয়্যার কালেকশন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরে। নিটওয়্যার, ওভেন, মডেস্ট অ্যাটায়ার, ট্র্যাডিশনাল ফ্যাশন থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম ফেব্রিকস—বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন করা হয় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে। পণ্য প্রদর্শনের পর সৌদি আমদানিকারক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সরাসরি পণ্য পরিদর্শন এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক আলোচনা (বি টু বি টকস)-এর জন্য বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এ ছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উদ্যোগে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রও প্যাভিলিয়নে প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
এক্সপোতে আসা ব্যবসায়ীরা বলেন, ইউরোপীয় বাজারে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-কেন্দ্রিক ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক দেশ। এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিল্প ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারীরা একদিকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান, ডিজাইন, প্যাকেজিং ইত্যাদি প্রদর্শন ও বিপণন করতে পারেন, অন্যদিকে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপনসহ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের সুযোগ লাভ করবে বলে জানান।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, চার দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৌদি আরবসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পরিচিতি আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অতিরিক্ত বৈদেশিক আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।