অভিনয় থেকে পরিচালনায়, নতুন কী নিয়ে আসছেন ইমরান

· Prothom Alo

অভিনয়শিল্পী হিসেবে ‘কাইজার, ‘মহানগর’, ‘রঙিলা কিতাব’, ‘ফেউ’, ‘গুলমোহর’, ‘রইদ’ কাজগুলো দিয়ে বেশ আগেই সমীহ আদায় করে নিয়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। সেই অভিনেতাই এ বছরের শুরুর দিকে ওয়েব কনটেন্ট ‘জ্বীনের বাচ্চা’ দিয়ে হঠাৎ করে নির্মাতা পরিচয়ে আবির্ভূত হন। এবার দ্বিতীয় পরিচালনা জাদুকর নিয়ে আসছেন ইমরান।

ইমরান মনে করেন, অভিনয় ক্যারিয়ারে সব সময়ই ভালো পছন্দসই গল্প আসবে, এমন নয়। এ কারণেই পরিচালক হিসেবে নিজের পছন্দের গল্পগুলো ধারাবাহিকভাবে বলে যেতে চান তিনি। এই অভিনেতা ও নির্মাতা বলেন, ‘যেসব গল্প দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ভাবাচ্ছে, সেগুলোই সামনে নিয়ে আসছি। আমার প্রথম গল্পের আগেই জাদুকর–এর গল্পটি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। প্রথমবার শোনার পরই এটি মনে দাগ কাটে। নানা কারণে প্রথম গল্প হিসেবে এটি শেষ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন না বলা সেই গল্পই এবার দর্শকদের সামনে নিয়ে আসছি।’ ইমরান জানান, জ্বীনের বাচ্চা স্যোশাল হরর জনরার ছিল। এবার তিনি বেছে নিয়েছেন সাইকোলজিক্যাল হরর জনরা। নতুন গল্পটি বলার প্রেরণা পেয়েছেন হলিউড সিনেমা ‘নাউ ইউ সি মি’, ‘প্রেসট্রিজ’ ইত্যাদি সিনেমা থেকে।

Visit extonnews.click for more information.

কী আছে ‘জাদুকর’–এ? গ্রামবাংলার প্রচলিত এক জাদুকরের গল্পের মধ্য দিয়ে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের গল্প তুলে ধরেছেন ইমরান। তিনি জানান, সাধারণ এক মানুষের জাদুকররূপে উত্থানের গল্প দেখানো হয়েছে। দিন শেষে যা ভাবতে শেখায়, ভালোবাসাই বড় জাদু।

দেশের বাস্তবতায় নির্মাতাদের তো জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবই করতে হয়। এই অভিনেতা–নির্মাতা জানালেন, পরিচালনার চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং প্রযোজনা করা। নির্মাণ নিয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘নিজের দর্শনটাকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা—এটা খুব বেশি কঠিন কাজ। দুই–একটা পরিস্থিতি সামলাতে আর সিদ্ধান্ত নিতে একটু দ্বিধা ছাড়া খুব বেশি সমস্যা হয়নি।’

নির্মাতা হিসেবে সব ধরনের গল্পই বলতে চান ইমরান। তবে বেশি পছন্দ হরর। কারণ, এ ঘরানায় নানা স্তরে গল্প বলা যায়। বিনোদনের মোড়কে নানা সামাজিক ইস্যুতে বার্তা দেওয়া যায়, চাইলে গল্পকে যেকোনো দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। ‘এ ঘরানায় অনেক কিছুই বলতে পারি আরকি। আবার দিন শেষে একটা রূপকথার গল্প হয়েও সেটা থেকে যায়,’ বলেন তিনি।

‘জাদুকর’–এর পোস্টার। নির্মাতার ফেসবুক থেকে

ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে আশফাক নিপুন, তানিম নূর থেকে মেজবাউর রহমান সুমনের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন নূর ইমরান। জানালেন, এসব নির্মাতার সঙ্গে কাজ করা তাঁর নির্মাতা হিসেবে যাত্রাটাকে সহজ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, দেশি নির্মাতাদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে বেশি প্রিয় মেজবাউর রহমান সুমন। বাইরের নির্মাতাদের মধ্যে ভালো লাগে কোয়েন্টিন টারান্টিনোর কাজ।

হরর–পরাবাস্তব ধরনের গল্প ইমরানের পছন্দ। চলতি বছর ‘রইদ’–এও পেয়েছিলেন সে ধরনের গল্প। এ প্রসঙ্গে গত মে মাসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি নিজে পরাবাস্তব গল্প নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি, “রইদ”–এ সে ধরনের চরিত্র পেয়েছি। এটিকে কাকতালীয়, সৌভাগ্য—সবই বলব।’

‘জাদুকর’–এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরীফ সিরাজ। তিনি জানান, জাদুকর হওয়ার জন্য তাঁকে রীতিমতো জাদুকরের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। এসকে মিঠু নামের একজন জাদুকর নিয়মিত এসে জাদুর নানা কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন তাঁকে।

‘অপ্রচলিত গল্পগুলোকেই বাছতে চাই’

শরীফ বলেন,‘আমি সব সময় একটু ভিন্ন ঘরানার গল্পগুলোয় কাজ করি। সেটা আমার সহকর্মীরা সবাই জানেন। আমি, (মোস্তাফিজুর নূর) ইমরান সে সময় একটি সিনেমার শুটিং করছিলাম। শুটিং শেষের দিকে হঠাৎ একদিন এই জাদুকরের গল্প সামনে নিয়ে এল ইমরান। আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। পরে আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয় জাদুকর চরিত্রের জন্য। তখনো আমি প্রস্তুত ছিলাম না। কারণ, এটা চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। পরে পরিচালক নিজেই আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিলেন।’
বেশ কিছুদিন চলে রিহার্সাল। দুমাস আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে শুটিং করেন তাঁরা। ইমরান জানান, শিগগিরই এটি একটি ওটিটি প্লাটফর্মে প্রচারিত হবে। এর কাহিনি ও চিত্রনাট্য করেছেন রাজীব হোসেন। এতে আরও অভিনয় করেছেন শাওয়ানা, আনোয়ার হক, রশিদ হারুন প্রমুখ।

Read full story at source