ফেলিক্সের গোলে পর্তুগালের জয়, নরওয়ের জয়ে হলান্ডের জোড়া গোল

· Prothom Alo

পর্তুগাল ১-০ ওয়েলস

নরওয়ে ৩-২ ডেনমার্ক

জয়ে উয়েফা নেশনস লিগ শুরু হলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের। তবে লিসবনে আজ ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগালের জয়ের নায়ক রোনালদো নন, তাঁর আল নাসর সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স। ম্যাচের ২২ মিনিটে করা ফেলিক্সের একমাত্র গোলেই ওয়েলসকে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল।

Visit moryak.biz for more information.

নেশনস লিগে গ্রুপ-৪ এর অন্য এক ম্যাচে আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ডেনমার্ককে।

নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে এটাই ছিল পর্তুগালের প্রথম ম্যাচ। শুরুটাও হলো জয় দিয়ে। তবে স্কোরলাইন দেখে ম্যাচের গল্পটা বোঝা যাবে না। কারণ গোলের সুযোগ তৈরিতে ওয়েলসও পিছিয়ে ছিল না। বরং ম্যাচের শেষ দিকে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

লিসবনের এস্তাদিও জোসে আলভালাদেতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক পর্তুগাল। রোনালদো প্রথম সুযোগ পেয়েই শট নেন, কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের পাশ দিয়ে। এরপর ভিতিনিয়া ও জোয়াও ফেলিক্সের চেষ্টাও ওয়েলসের রক্ষণে আটকে যায়।

অবশেষে ২২ মিনিটে এলো সেই মুহূর্ত। নুনো মেন্দেস ওয়েলসের রক্ষণ ভেঙে সামনে এগিয়ে বল বাড়িয়ে দেন জোয়াও ফেলিক্সকে। পেনাল্টি এলাকার বাইরে বল পেয়ে একবার নিয়ন্ত্রণে নিলেন ফেলিক্স। তারপর নিচু শট। বল জড়িয়ে গেল নিচের বাঁ কোণের জালে।

পর্তুগালের এগিয়ে যাওয়ার পর রোনালদো আরও সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে জোয়াও ফেলিক্সের পাস থেকে তাঁর শট সহজেই ধরে ফেলেন ওয়েলস গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ আসে। রুবেন নেভেসের ক্রসে রোনালদো এমন এক সুযোগ পেলেন, যেখান থেকে গোল না করাটাই বরং বিস্ময়ের। কিন্তু তাঁর শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

এরপর আবারও গোল ভেবেছিলেন রোনালদো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের রক্ষণচেরা পাস ধরে দৌড়ে গিয়ে বল জালে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআর দেখে সেটি অফসাইড। গোল হলো না, অপেক্ষাটাও রয়ে গেল।

ওয়েলস সমতা ফেরানোর সবচেয়ে বড় সুযোগটি পেয়েছিল ব্রেনান জনসনের পায়ে। পর্তুগালের রক্ষণ ভেঙে ঢুকে তাঁর চিপ শট ধরতে পারেননি ওয়েলস গোলরক্ষক, কিন্তু বল গিয়ে লাগে ক্রসবারে। ফিরতি বলে লুইস কোমাসের শটও গোললাইন থেকে ঠেকিয়ে দেন রুবেন দিয়াস।

শেষ দিকে ওয়েলস আরও চাপ তৈরি করেছে। ড্যানিয়েল জেমস ও নুনো মেন্দেস দুজনেই সুযোগ পেয়েছেন। বদলি গনসালো রামোসের শটও ঠেকাতে হয়েছে ড্যানি ওয়ার্ডকে।

ওদিকে অসলোতে নরওয়ের শুরুটা হয়েছিল ঝড়ের মতো। ১৪ মিনিটেই গোল। মার্টিন ওডেগার্ডের দারুণ এক পাস পেয়েছিলেন অস্কার বব। ডেনমার্কের ডিফেন্ডার অলিভার প্রোভস্টগার্ডকে কাটিয়ে বাঁকানো শটে দূরের পোস্টের কোণ খুঁজে নেন বব। নরওয়ে এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।

চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ। এবার গোলের কারিগর আন্তোনিও নুসা, আর শেষ কাজটা করলেন হলান্ড। নুসা ভেতরে ঢুকে পেছন দিকে দুর্দান্ত এক পাস বাড়ান। সেই বল ধরে জোরালো শটে গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা। ফিলিপ ইয়র্গেনসেনের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল চলে যায় জালে।

১৮ মিনিটেই ২-০। কিন্তু ডেনমার্ক তখনও ম্যাচ ছেড়ে দেয়নি।

২৫ মিনিটে ব্যবধান কমান মিকেল দামসগার্ড। ফ্রি কিক থেকে তাঁর শট নরওয়ের মানবপ্রাচীরের ওপর দিয়ে বাঁক নিয়ে গোলরক্ষক অরিয়ন নাইল্যান্ডকে ফাঁকি দেয়। ডেনমার্কের ফিরে আসার গল্প তখন থেকেই শুরু।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে নরওয়ে আবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। প্যাট্রিক বার্গের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইয়র্গেনসেন। সেই সেভটাই তখন ডেনমার্ককে ম্যাচে বাঁচিয়ে রাখে।

দ্বিতীয়ার্ধের একেবারে মাঝামাঝি এসে সমতা। কর্নার থেকে মর্তেন হিউলমান্ডের হেড ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন নাইল্যান্ড। কিন্তু ফিরতি বলের সামনে সবার আগে পৌঁছে যান রাসমুস হইলুন্দ। হেডে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ২-২।

নরওয়ের জন্য তখন ম্যাচটা আবার নতুন করে শুরু।

আর সেই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিলেন হলান্ড। একটি কর্নার থেকে নুসার ছোট পাস পান ওডেগার্ড। তিনি বল নিয়ে কাটব্যাক করেন। ঠিক সেখানেই অপেক্ষায় হলান্ড। কাছের পোস্টে প্রচণ্ড জোরের শট। ইয়র্গেনসেনের আর কিছু করার ছিল না। ৩-২।

শেষ মুহূর্তে নরওয়ের জন্য বিপদ আরও বাড়ে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডেভিড মোলার উলফ। ১০ জনের নরওয়ের সামনে তখন ডেনমার্কের শেষবারের মতো সমতা ফেরানোর চেষ্টা।

কিন্তু আর গোল হয়নি।

Read full story at source