আরিফিন শুভ এখন ‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’, কিন্তু…

· Prothom Alo

‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’ জীবন কাটাচ্ছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। কখনো দেশে, কখনো দেশের বাইরে—কাজ আর নিজের মতো করে সময় কাটানো নিয়েই এখন তাঁর ব্যস্ততা। গত কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত ‘মালিক’। সিনেমাটি মুক্তির পর আবার দেশের বাইরে চলে যান তিনি। ‘মালিক’-এর আগেও দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন। তখন কাজ করেছেন সনি লিভ অরিজিনাল সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’তে। সিরিজটিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

আরিফিন শুভ

কাজের টানেই হয়তো এভাবে ছুটে চলেছেন শুভ। কিন্তু এই ‘বোহেমিয়ান’ জীবনে নতুন কোনো পিছুটান কি তৈরি হবে? আবার কি বাঁধা পড়বেন সম্পর্কের মায়ায়? প্রশ্নটি তাঁর ভক্তদের মনেও আছে। কিছুদিন আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ লিখে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছিলেন অভিনেতা। পরে অবশ্য জানা যায়, সেটি তাঁর ব্যক্তিজীবনের কোনো ঘোষণা নয়; চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর ঘোষণা। তবু ভক্তদের কৌতূহল থেকেই যায়—বাস্তব জীবনে কবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হবেন আরিফিন শুভ?

এ প্রসঙ্গে শুভ বলেন, ‘জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে—এগুলো নাকি ওপরওয়ালা থেকে নির্ধারিত হয়। যেহেতু আমি এখন “হ্যাপিলি সিঙ্গেল”, তবে আমার উপলব্ধি হয়েছে, মানুষ বোধ হয় একা বাঁচার জন্য তৈরি হয়নি। মানুষ একা বাঁচতে পারে না।’

আরিফিন শুভ

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাকে হারান আরিফিন শুভ। মায়ের মৃত্যুর পর ব্যক্তিজীবনের আরও কিছু ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একটা সময় নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন। সেই সময় পেরিয়ে জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে তাঁর ভাবনায়ও এসেছে পরিবর্তন।

শুভ বলেন, ‘আমার মা চলে যাওয়ার পর এবং আরও বিভিন্ন ঘটনা ঘটার পর আমি নিজেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলাম। কিন্তু আস্তে আস্তে অনুধাবন করছি, মানুষ একা বাঁচার জন্য জীবন ধারণ করে না। সেটা শুধু বৈবাহিক সম্পর্কই হতে হবে, তা নয়। তবে যদি বিশেষভাবে বিয়ের কথা বলতে চাই, সে ক্ষেত্রে বলতে পারি, অবশ্যই সম্পর্ক বা বিয়ে আমার জীবনে আবার আসতে পারে। সেটা ওপরওয়ালা জানেন। যখন হবে, তখন হবে।’

দেশের বাইরে থাকার কারণ কি শুধুই কাজ? নাকি এবার সেখানেই ঘর বাঁধবেন আরিফিন শুভ? এসব ব্যাপারে একদমই কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি। স্বভাবসুলভভাবে বলেছেন, ‘আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন।’

আরিফিন শুভ

একসময় জীবন নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করতেন শুভ। কোন পথে এগোবেন, কীভাবে এগোবেন—এসব নিয়ে ছিল নির্দিষ্ট ভাবনা। এখন সেই চিন্তাভাবনায়ও বদল এসেছে। জীবনকে আর খুব বেশি ছকে বাঁধতে চান না তিনি।

আরিফিন শুভ বলেন, ‘একটা সময় খুব পরিকল্পনা করে জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ছিল। সেটাকে ভুল বলব না। জীবনের একেক সময়ে একেক উপলব্ধি থাকে। তবে এই মুহূর্তে সে অর্থে কোনো পরিকল্পনা বা কৌশল নেই যে এভাবেই যাব বা এভাবেই করব। জীবনের গতি বা স্রোত যেভাবে যেদিকে নিয়ে যাবে, সেটাকে মেনে নিয়ে বাঁচার, জীবনকে উপলব্ধি ও উপভোগ করার প্রয়াস থাকবে। জীবনের স্রোতের সঙ্গে ভেসে থাকাটাই বোধ হয় শান্তিপূর্ণ জীবন। আমি চেষ্টা করছি জীবনের স্রোতকে বোঝার এবং সে অনুযায়ী জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার।’

তাহলে জীবনের সেই স্রোত কি আরিফিন শুভকে ‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’ থেকে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে? নিজের জীবনের সে উত্তর আপাতত গোপনই রাখলেন তিনি। তবে পর্দার হ্যাপিলি ম্যারিড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিয়ে ও দাম্পত্য নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথাও জানালেন।

আরিফিন শুভ

শুভ বলেন, ‘হয়তো হাজার বছর ধরে একটা ধারণা আমরা সবাই বয়ে নিয়ে আসছি যে এই–এই হলে “হ্যাপিলি ম্যারিড” হয়, আর এই–এই না হলে হয় না। ইনস্টাগ্রামে দেওয়ার মতো একটা ছবি না হলে, ও রকম কিছু না হলে হয়তো “হ্যাপিলি ম্যারিড” হয় না। কিন্তু বাস্তবতা অন্য জায়গায়। অনেক ছোট ছোট বিষয় থাকে, যা বোধ হয় বিবাহিত জীবনকে স্থিতিশীল রাখে, সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সেসব বিষয় সব সময় “হ্যাপিলি ম্যারিড” ধরনের হয় না। সেগুলো আসে অনেক বোঝাপড়া, অনেক দেওয়া-নেওয়া, অনেক সমঝোতার পর। সো, হ্যাপিলি ম্যারিড ইজ অল অ্যাবাউট “হ্যাপিলি ম্যারিড”-এরপর কী হয়, সেই গল্প।’

Read full story at source