সন্ধ্যায় ভুল সংশোধন করল সচেতন গ্রাহক ফোরাম– বৈঠকটি গভর্নর নয়, ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে হয়

· Prothom Alo

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে নয়; ডেপুটি গভর্নর কবির আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতারা।

দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলেছে, সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে গভর্নর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তাদের ৭ দফা দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

কিন্তু সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সংগঠনটি সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, আজ সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তাঁরা। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ইসমাইল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ফোরামের আহ্বায়ক নুর উন নবী, সদস্যসচিব মুতাছিম বিল্লাহ বৈঠকে অংশ নেন।

এ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও গণমাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয়, ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহক ফোরামের সঙ্গে গভর্নরের সঙ্গে আজ (বুধবার) কোনো বৈঠক হয়নি। বেলা ১১টায় গ্রাহক ফোরামের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বক্তব্য পেশ করে।

এ দিকে সকালের বৈঠক সম্পর্কে জানাতে আজ দুপুরে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যসচিব মুতাছিম বিল্লাহ গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক নুর উন নবীর উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সাত দফা দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

৭ দফা দাবি কী কী

সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নিচের ৭ দাবি পেশ করা হয়েছে—

১. পেশাদার পর্ষদ গঠন

অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।

২. প্রকৃত মালিকানা হস্তান্তর

২০১৭ সালে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ব্যাংকের প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দিতে হবে।

৩. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন

বিদায়ী সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় এস আলমসহ যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে তাদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. স্থিতিশীলতা ও অপপ্রচার রোধ

ব্যাংকিং খাতে আতঙ্ক দূর করতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার রোধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত

বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থঋণ আদালতে বিশেষ সেল গঠন করে লুটেরাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রি করে ব্যাংকের দেনা শোধ করতে হবে।

৬. আইন সংশোধন

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধন করে চিহ্নিত লুটেরা, তাদের পরিবার ও সুবিধাভোগীদের ব্যাংকিং খাতের পরিচালক পর্ষদে আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

৭. সংসদীয় বক্তব্য প্রত্যাহার

জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রদত্ত বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

Read full story at source