ময়মনসিংহ বন্ধুসভার পাঠচক্রে আহমদ ছফার ‘গাভী বিত্তান্ত’

· Prothom Alo

প্রথাবিরোধী কালজয়ী লেখক আহমদ ছফার ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস ‘গাভী বিত্তান্ত’। বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা। ১৪ জুন বিকেলে প্রথম আলো ময়মনসিংহ অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠ আলোচনা করেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আল ইমরান। ‘গাভী বিত্তান্ত’ বইটির সার্বিক বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, বইটির বিষয়বস্তু এখনো আমাদের সমাজব্যবস্থা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির সঙ্গে ব্যাপক প্রাসঙ্গিক। তৎকালীন স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল। যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের মূল ভিত্তিসমূহ সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

মূল চরিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ। যিনি খুবই সাধারণ এবং সাবলীল মনের মানুষ। ফলে তাঁর আশপাশের মানুষজন তাঁকে দিয়ে তাঁদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করিয়ে নিতে পারেন। মূলত তিনি তাঁর এক সহকর্মী শিক্ষিকার মাধ্যমে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে ভিসি নির্বাচিত হন। ভিসি নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় নিজের মধ্যে।

ভিসি নির্বাচিত হওয়ার পর আবু জুনায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজের বিনিময়ে তাঁর চাচাশ্বশুরের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে একটি বিরল প্রজাতির গরু উপহার পেয়েছিলেন। এক সহকর্মীর কাছ থেকে অনেকগুলো পাখিও উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন। গরুটি পাওয়ার পর আবু জুনায়েদ ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর গরু পালনের প্রতি একটা শখ ছিল। কিন্তু পারিপার্শ্বিক কারণে তখন তাঁর আর শখ পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

যখন গাভিকে নিয়ে মিয়া মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি, খুন ও নানা সমস্যা আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে আবু জুনায়েদের স্ত্রী নুরুন্নাহার বানু মনে করতে থাকেন, গাভিটি আসার পর থেকে তাঁর সংসারে সমস্যা বেড়ে গেছে। যার জন্য আবু জুনায়েদ এখন আর আগের মতো নেই। নুরুন্নাহারের কোনো কথাই যেন জুনায়েদ আগের মতো ভ্রূক্ষেপ করেন না। তাই নুরুন্নাহার ক্ষিপ্ত হয়ে একপর্যায়ে গাভির খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেন। ফলে বিষক্রিয়ায় গাভিটির মৃত্যু হয়।

এমন সময়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে আবু জুনায়েদ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সমগ্র বিশ্বের একান্নটি দেশে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে যান। যার জন্য মোটা অঙ্কের সম্মাননাও ঘোষণা করা হয়। মূলত বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নোংরা রাজনীতি, অনিয়ম ও অস্থিরতা পদ্ধতির প্রেক্ষাপটে রচিত বাংলা ভাষার সবচেয়ে শক্তিশালী উপন্যাস হিসেবে গণ্য ‘গাভী বিত্তান্ত’।

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মেহেদী হাসান, বন্ধু রিয়াজুল ইসলাম, ফোয়াদ হাসান, তুশরাত জাহান, তাবাসসুম প্রাপ্তি ও সাইমা প্রমি।

Read full story at source