টাকা জোগাতে হাজারীবাগে ট্যানারির জমি বিক্রির বাধা দূর করা দরকার: মোস্তাফিজুর রহমান
· Prothom Alo

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, দেশের অনেক ট্যানারি প্রতিষ্ঠান অর্থায়ন সংকটে ভুগছে। রাজধানীর হাজারীবাগে থাকা ট্যানারির পরিত্যক্ত জায়গা বিক্রি করতে পারলে তাদের জন্য একটি অর্থপ্রবাহ তৈরি হতো। তবে ওই জমি বিক্রি করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আছে। এসব বাধা দূর করা প্রয়োজন।
আজ শনিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের ভবিষ্যৎ কি ফিকে হয়ে আসছে’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এ কথা বলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
Visit mchezo.life for more information.
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডল।
দূষণ কমাতে হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারিগুলো সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, সাভারে স্থানান্তরের পরে ট্যানারিগুলোকে যে ধরনের অবকাঠামো ও নীতিসহায়তা দেওয়া দরকার ছিল, সেটি খুব একটা হয়নি।
চামড়ার বৈশ্বিক বাজারে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ থাকা এখন বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৭ সাল থেকে কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিব্যাম) কার্যকর করতে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সিব্যামের আওতায় তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতও চলে আসবে। পণ্য উৎপাদন ও মূল্য সংযোজনে কতটুকু কার্বন নির্গমন হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে তারা কার্বন কর বসাবে। বক্তব্যের সময় এসব তথ্য জানান মোস্তাফিজুর রহমান।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বাজার সুবিধা ধরে রাখতে হলে এই মানগুলো অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি সিনথেটিক লেদারের বৈশ্বিক বাজার বড় হচ্ছে। ফলে এই খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার সঠিক সম্প্রসারণ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বিএফএলএলএফইএ চেয়ারম্যান মো. টিপু সুলতান বলেন, কোরবানির ঈদের সময় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ বকরির চামড়া এবং ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ গরুর চামড়া সংগ্রহই করা যাচ্ছে না। যা-ও সংগ্রহ হচ্ছে, তার ৫০ শতাংশই থাকে নষ্ট বা ড্যামেজ চামড়া।
ফুটওয়্যার, লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নাসির খান বলেন, ‘যে চামড়া আমরা একসময় আড়াই থেকে তিন ডলারে কিনতাম, আজ সেই চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য মাত্র ৪০ থেকে ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। সরকারের ভুল নীতির কারণে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি।’
ওয়েবিনারে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ জানান, আগে ব্যাংক থেকে ‘কোরবানি অ্যাডভান্স’ নামে ট্যানারিকে প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হতো। ২০১৭ সালে স্থানান্তরের পর ট্যানারিগুলো একে একে খেলাপি হতে থাকে। বর্তমানে মাত্র ২০ শতাংশ ট্যানারি কোনোমতে সচল আছে। ঋণ শোধ করতে না পারায় ব্যাংকগুলো এ বছর কোরবানিতে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
অবশ্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন মনে করেন, চামড়া খাতের মূল সমস্যা শুধু অর্থায়নের না। তিনি বলেন, ট্যানারির মালিকেরা অর্থসংকটের চেয়ে এই খাতে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স, এলডব্লিউজি সনদ ও সাভারের সিইটিপির অব্যবস্থাপনাকে বড় সংকট হিসেবেই দেখছেন।
কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, শুধু তড়িঘড়ি করে সংগ্রহ, সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং লবণের সঠিক ব্যবহারের অভাবে প্রতিবছর বিশাল পরিমাণ চামড়া অপচয় হয়। আগামী এক বছরের মধ্যে এই অপচয়ের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।