পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের অদ্ভুত দৃষ্টান্ত

· Prothom Alo

উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জনগণের অর্থের অপচয় ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাব আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। কিন্তু রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যা ঘটেছে, তা রীতিমতো হাস্যকর। ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি একাডেমিক ভবনের দোতলা নির্মাণ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে ওঠার জন্য রাখা হয়নি কোনো সিঁড়ি! ফলে গত চার বছর দোতলার কক্ষগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে, আর নিচতলায় বাঁশের বেড়া দিয়ে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

Visit afsport.lat for more information.

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, কয়েক দফায় জেলা পরিষদ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ নিয়ে ভবনটি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, যখন নকশা অনুমোদন করা হলো কিংবা যখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করে বিল তুলে নিল, তখন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা তদারকি কর্মকর্তাদের চোখে কেন এই বিশাল গলদ ধরা পড়ল না? সিঁড়ি ছাড়া একটি দোতলা ভবন কীভাবে ‘সম্পন্ন’ হিসেবে গণ্য হতে পারে, তা সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন।

বর্তমানে বিদ্যালয়ের ২৩৫ জন শিক্ষার্থী যে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে পাঠদান করছে, তার দায়ভার কে নেবে? সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি কক্ষের ভেতরে বাঁশের চাটাই দিয়ে ভাগ করে ক্লাস করতে হচ্ছে। এমনকি বিদ্যালয়ে একটি টিউবওয়েল পর্যন্ত নেই এবং খেলার মাঠটি সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলারই প্রমাণ।

উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের বর্তমান কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, তাঁরা বিষয়টি জেনেছেন ও সমাধানের চেষ্টা করছেন। কিন্তু চার বছর ধরে একটি ভবন এভাবে পড়ে থাকা প্রমাণ করে যে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি কতটা শিথিল। এটি কেবল ‘ভুল’ নয়, বরং এর পেছনে আর্থিক অনিয়ম বা চরম অবহেলা আছে কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নতুন বরাদ্দের দোহাই দিয়ে আর সময়ক্ষেপণ না করে জরুরি ভিত্তিতে সিঁড়ি নির্মাণ করে দোতলার কক্ষগুলো ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। যাঁরা সিঁড়ি ছাড়া এই অদ্ভুত নকশা অনুমোদন করেছেন, যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ করেছে, যাঁরা ঠিকাদার থেকে কাজ বুঝিয়ে নিয়েছেন, তাঁদের সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সপ্তপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্রুত সিঁড়ি নির্মাণসহ বিদ্যালয়ের সুপেয় পানির সংকট সমাধান এবং খেলার মাঠের সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করি, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর দ্রুত এই সংকটের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

Read full story at source