পরীক্ষার আগমুহূর্তে ছেলেটি বলল, আমার এসএসসির প্রবেশপত্রসহ ফাইল বাসে ফেলে এসেছি
· Prothom Alo

‘তখন সকাল সাড়ে ৯টার মতো। আমি বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চবিদ্যালয়ের বিপরীতে নগর পুলিশ লাইনসের সামনে দায়িত্বরত ছিলাম। এক ছেলে হঠাৎ কান্না করতে করতে এসে বলল, “ভাই, আমার এসএসসির প্রবেশপত্রসহ ফাইল বাসে ফেলে এসেছি। সেখানে প্রবেশপত্র ছাড়াও রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজ রয়েছে। শোনার সঙ্গে সঙ্গে এক মুহূর্তও দেরি করিনি। তল্লাশি শুরু করি বাসে। পুরো টিম কাজ করে। ১৫ মিনিটের মধ্যে পেয়ে যাই ফাইল।’
মুঠোফোনে কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের (দক্ষিণ) সার্জেন্ট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া প্রবেশপত্রসহ অন্যান্য কাগজ উদ্ধার করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকেল থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
Visit mchezo.co.za for more information.
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ট্রাফিক সার্জেন্ট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, বিষয়টি জানার পরপরই ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষে খবর দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় বিআরটিসির ১০ নম্বর ও ডাবল ডেকার বাসগুলোতে তল্লাশি চালানো শুরু হয়। পরে আড়াই কিলোমিটার দূরে ফলমন্ডি এলাকায় বিআরটিসির বাস তল্লাশি করে শিক্ষার্থীর ফাইলটি উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে এনে পরীক্ষার ১৫ মিনিট আগে ফাইল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সব বিভাগের কৃতিত্ব ছিল বলে জানান মোহামদ আলাউদ্দিন। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘এটা শুধু আমার একার কাজ না। পুরো টিম মিলে কাজ করেছি। কন্ট্রোল রুম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা সার্জেন্টরা সবাই সহযোগিতা করেছেন। পরে সার্জেন্ট রেজাউল হক ও সার্জেন্ট আতিকুর রহমান ওই পরীক্ষার্থীকে তার কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়েছেন।’
এ ঘটনায় সার্জেন্ট আতিকুর রহমান, সার্জেন্ট আলাউদ্দিনসহ দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেছেন নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ যে মানুষের জন্য কাজ করে, এ ঘটনার মাধ্যমে সেটি আবারও প্রমাণিত হলো। ভবিষ্যতে রুটিন দায়িত্বের বাইরে যাতে এমন কাজ করেন পুলিশ সদস্যরা, সে জন্য তাঁদের ডেকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এদিন চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলায় ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষা ছিল। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে বেলা একটায় শেষ হয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য তিন জেলার ২১৮ কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৯৭০ জন। অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ১০৯। চট্টগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চবিদ্যালয়সহ ১২৬ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৭৭ হাজার ১১৪ জন, অনুপস্থিত ৭৫১ জন।