রামুতে কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ, পরিবারের দাবি ‘পরিকল্পিত’ হত্যা
· Prothom Alo

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের শ্রীধনপাড়ায় চাকমা সম্প্রদায়ের এক কিশোরীর (১৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শ্রীধনপাড়ার বাসিন্দা সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ভবনের দ্বিতীয় তলার রান্নাঘর থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে।
Visit syntagm.co.za for more information.
নিহত কিশোরী টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা। তিন বছর ধরে সে ওই বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করছিল।
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আজ সোমবার বিকেলে কিশোরীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানে কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি ও রামু কেন্দ্রীয় মহাসীমা বৌদ্ধবিহারের আবাসিক পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুসহ সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, নিহত কিশোরীর পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা। শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে বাড়ির মালিকপক্ষের দাবি, বৈশাখ উপলক্ষে বাড়ি যেতে না পেরে কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।
সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিক্সন চৌধুরী বলেন, কিশোরীর গলায় দাগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়ির মালিক সাধন বড়ুয়ার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। তাঁদের একজন সম্প্রতি ফ্রান্স থেকে দেশে এসেছেন। কিশোরীর পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন বিকেলে ওই ব্যক্তি কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে তাঁকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
তবে বাড়ির মালিক সাধন বড়ুয়া দাবি করেন, কিশোরীটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
কিশোরীর বাবা বলেন, ঘটনার দিন সকালে মেয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি ফোন করেছিলেন, কিন্তু কেউ ধরেনি। বিকেল পাঁচটার দিকে সে খালার মুঠোফোনে কল দিয়ে দ্রুত আসতে বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। রাত আটটার দিকে বাড়িতে গিয়ে তিনি মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’