ভারতের তিন রাজ্যে বড় অস্ত্র পাচার চক্রের সন্ধান, উদ্ধার ৪৪ হাজার কার্তুজ

· Prothom Alo

ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি বড় অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এই তিন রাজ্যের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ উদ্ধার এবং জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সংবাদমাধ্যম মিল্লাত টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর চন্দন তিওয়ারি ও তাঁর ভাই অভিষেক তিওয়ারির ছবি প্রকাশ্যে আসায় ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন ছবিতে তাঁদের দুজনকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) পোশাক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। অন্য একটি ছবিতে মুজাফফরপুরের এক স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গেও তাঁদের দেখা যায়।

Visit sweetbonanza.qpon for more information.

অভিষেক তিওয়ারি এর আগেও একটি অস্ত্র পাচার মামলায় কারাগারে ছিলেন। চন্দন তিওয়ারিকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ। তবে আরএসএসের এই চক্রে সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তার কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। কেবল পোশাক পরা ছবির মাধ্যমে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগসূত্র নিশ্চিত হওয়া যায় না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

পাটনা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিহারের আরা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১৯ হাজারের বেশি কার্তুজ উদ্ধার করে বিহার এসটিএফ। এ ঘটনায় চন্দন তিওয়ারিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, চক্রটির শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে উত্তর প্রদেশের বদায়ূঁ জেলায়। পরবর্তী সময়ে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানায় অভিযান চালিয়ে আরও কয়েক হাজার কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

একই ধরনের অভিযানে হরিয়ানা এসটিএফ ঝজ্জরের রোহদ টোল প্লাজার কাছ থেকে দুটি গাড়ি তল্লাশি করে মোট ২৫ হাজার গুলি ও আটটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বদায়ূঁ জেলার বাসিন্দা মুন্না খান, আসিম রইস, সবলু খান, আরবাজ আলী ও জিনাত নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ‘বদায়ূঁ গান হাউস’-এর মালিক মুন্না খান সিরসা এলাকায় অবস্থিত ‘মেহক গান হাউস’-এর মালিক বিজয় গোয়েলের কাছ থেকে এই কার্তুজ সংগ্রহ করেছিলেন।

তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কার্তুজের উৎস নিয়ে। উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলো সরকারি অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বা সমরাস্ত্র কারখানায় তৈরি। সরকারি কারখানায় তৈরি কার্তুজ কীভাবে এই বেআইনি চক্রের হাতে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এর আগে জাল লাইসেন্স ব্যবহার করে ১০০টি পিস্তল সরবরাহের মামলায় বিহারের ‘জালান শপ’ নামের একটি অস্ত্র বিপণির নাম এসেছিল। তার সঙ্গে এই অবৈধ কার্তুজ উদ্ধারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ইতিমধ্যে তদন্তে যুক্ত হয়ে সরবরাহের মূল উৎস এবং ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছে। বিপুল এই গোলাবারুদের চূড়ান্ত ক্রেতা কারা ছিল, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

Read full story at source