দাবা খেললে শিশুর মনোযোগে যা হয়

· Prothom Alo

গত জুলাইয়ের এক রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ক্লাবে দাবার ম্যাচ চলছিল। একটি টেবিলে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের মুখোমুখি বসেছিলেন বয়সে ২৫ বছরের বড় এক দাবারু। তাঁরা একটানা তিন ঘণ্টা ধরে একটিমাত্র ম্যাচ খেলেন।

ম্যাচের শেষ দিকে কিশোরের সময় প্রায় শেষ হয়ে আসছিল। কিন্তু তার মনোযোগে কোনো কমতি ছিল না। চাপের মুখে বয়স্ক খেলোয়াড়টি একটি ভুল চাল দিয়ে বসেন। কিশোরটি সঙ্গে সঙ্গে সুযোগটি কাজে লাগায়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

আজকাল বলা হয় প্রযুক্তির কারণে মানুষের মনোযোগ কমে যাচ্ছে। কিন্তু যারা দাবা খেলে, তাদের জন্য কথাটা একদম ভিন্ন। ১২ বছরের ওই কিশোর কয়েক ঘণ্টা গভীর মনোযোগ ধরে রাখতে পেরেছিল।

অনলাইনে দ্রুতগতির দাবা এখন জনপ্রিয় হলেও সামনাসামনি ধীরে খেলার ক্ল্যাসিক্যাল দাবাই কিন্তু বড় খেলোয়াড় হওয়ার প্রধান পথ।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, ভালো ক্ল্যাসিক্যাল দাবাড়ুদের বয়স দিন দিন কমছে। সম্প্রতি মাত্র ১৪ বছর বয়সে কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছে। এ ছাড়া এ বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার জন্য লড়ছেন ২০ বছর বয়সী দুজন গ্র্যান্ডমাস্টার। যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সেরা ৯ বছর বয়সী শিশুটিও লস অ্যাঞ্জেলেসে নিয়মিত দাবা খেলে।

এই হাতিটি মৃত শাবককে বয়ে বেড়ায় কেন

কিন্তু দাবা খেলার সঙ্গে মনোযোগ ধরে রাখার আসল ব্যাপারটা কী? এই ধীরগতির ক্ল্যাসিক্যাল দাবা কি আমাদের জটিল সমস্যার সমাধানের কোনো পথ দেখাতে পারে? নাকি মানুষের মনোযোগের অভাব আসলে তাদের আগ্রহ বা উদ্দীপনার অভাব?

‘চেস ডট কম’–এর সাংবাদিক ও ভাষ্যকার মাইক ক্লেইন প্রায় ১৫ বছর ধরে শ্রেণিকক্ষে শিশুদের দাবা শিখিয়েছেন। তিনি মনে করেন না দাবা সব শিক্ষাগত সমস্যার কোনো জাদুকরি সমাধান। তবে এটি শিশুদের তরুণ মস্তিষ্কের বিশেষ একটি চাহিদা পূরণ করে। ক্লেইন বলেন, শিশুদের মনোযোগের সময় বাড়ানো ও একাগ্রতা তৈরি করার ক্ষেত্রে দাবা বেশ কার্যকর।

দাবায় প্রতিটি চালেই খেলোয়াড়কে নতুন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, যা শিশুদের চিন্তা করতে সাহায্য করে। এটি চাল দেওয়ার আগে তাদের একটু থামতে ও ভাবতে শেখায়। দাবায় পাঁচ বা ১০ মিনিট শান্ত হয়ে বসে থাকতে হয় এবং মাথায় আসা প্রথম চিন্তাটি প্রয়োগ না করে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

এই খেলায় একের পর এক নতুন সমস্যা আসে। প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঠিক বা ভুল ফল সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায়। ফলে এটি শেখার জন্য দারুণ একটি পরিবেশ তৈরি করে। মজার বিষয় হলো, স্কুলের শ্রেণিকক্ষের চেয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার মাঠেই এমন পরিবেশ বেশি পাওয়া যায়।

অস্বাস্থ্যকর খাবারের স্বাদ স্বাস্থ্যকর খাবারের চেয়ে ভালো লাগে কেন

স্নায়ুবিজ্ঞানী ও শিক্ষক জুডি উইলিস এটি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি একে ‘সক্রিয় শিক্ষা’ বলেন। তিনি জানান, ভিডিও গেম, বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা খেলাধুলার মতো দাবাতেও ভুল করলে সঙ্গে সঙ্গে তার ফল দেখা যায়। ফলে শিশুরা নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে ধাপে ধাপে উন্নতি করতে পারে।

মনোযোগ দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে আগ্রহ বা অনুপ্রেরণা। মানুষের মস্তিষ্ক নতুন কিছু শিখতে ও অসম্পূর্ণ সমস্যার সমাধান বের করতে পছন্দ করে। কিন্তু শিশুরা যখন পড়াশোনা বা কোনো কাজের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারে না, তখন তারা মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। আগ্রহের অভাব থাকলে শেখার ইচ্ছা আর তৈরি হয় না।

দাবা খেলা মস্তিষ্ককে কাজ করার নতুন প্রেরণা দেয়। প্রতিটি সঠিক চালের পর মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের রাসায়নিক তৈরি হয়। ফলে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছা বাড়ে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দাবা খেলা শুরু করা সহজ ও খুব দ্রুত নিজের উন্নতি দেখা যায়। দিনে দিনে ভালো খেলার এই আনন্দই শিশুদের দাবার প্রতি আগ্রহী করে তোলে। অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাও পেশির মতো শক্তিশালী করা সম্ভব।

তবে জোর করে বা টাকাপয়সার লোভে ফেলে ভালো দাবাড়ু বানানো যায় না। এর জন্য মনের ভেতর থেকে ভালোবাসা ও আগ্রহ থাকতে হয়। অনেক অভিভাবক সন্তানকে জোর করে নানা কাজে যুক্ত করেন। এতে শিশুদের স্বাভাবিক কৌতূহল ও আনন্দ নষ্ট হয়ে যায়।

বিষেজ্ঞরা মনে করেন, দাবা খেলা প্রমাণ করে, আগ্রহ থাকলে শিশুরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা গভীর মনোযোগ দিতে পারে। পড়ালেখাতেও এমন আগ্রহ তৈরি করতে পারলে শিশুরা মনোযোগ ধরে রাখতে পারবে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ

বিল গেটসের চোখে এই তিন পেশা এআই সহজে কেড়ে নিতে পারবে না

Read full story at source