পদ্মার দুর্গম চরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ১১
· Prothom Alo

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযানে পুলিশের অন্তত ২০০ সদস্য অংশ নিয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোর চারটা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। চলবে বিকেল পর্যন্ত। দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত অভিযানে ১১ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নিজেও অভিযানে অংশ নিয়েছেন। সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন, অবৈধ দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। শুধু কুষ্টিয়ায় নয়; পাশের রাজশাহী, নাটোর, পাবনার চরাঞ্চলেও একই সময়ে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
Visit mchezo.co.za for more information.
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। চরের নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল দখল, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, কৃষিজমির ফসল লুট এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় প্রায়ই গোলাগুলি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও চরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিতভাবে চার জেলার পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মার চরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়ন এবং ভেড়ামারা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করতে চরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান আরও কয়েক ঘণ্টা চলবে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে চরে একাধিক অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। তখন বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আবার সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।