বিড়াল পোষার সঙ্গে মানুষের সুখের সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা

· Prothom Alo

মানুষের সুখের সঙ্গে পশু বা প্রাণী পোষার মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা জানার আগ্রহ রয়েছে অনেকের। পিএলওএস ওয়ান সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় বিড়াল পোষার সঙ্গে মানুষের সুখের একটি আশ্চর্যজনক সংযোগ খুঁজে পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা এ গবেষণায় ৯৩টি দেশের বিড়ালের ঘনত্ব, মানুষের সুখের মাত্রা এবং টক্সোপ্লাজমা গন্ডি নামক পরজীবীর সংক্রমণের হার খতিয়ে দেখা হয়েছে। জৈবিক ও পরিবেশগত উপাদানগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা এই গবেষণার মাধ্যমে নতুনভাবে সামনে এসেছে।

Visit mwafrika.life for more information.

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দেশে বিড়ালের সংখ্যা বেশি, সেখানকার মানুষ সাধারণত তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় সুখ বা সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেছেন। তবে এর পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা টক্সোপ্লাজমা গন্ডি পরজীবীর সংক্রমণের প্রভাবও খতিয়ে দেখেছেন। বিড়ালের শরীরে থাকা এই পরজীবী সাধারণত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না, তবে দুর্বল স্বাস্থ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রে এটি উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা সিজোফ্রেনিয়ার মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে যেসব দেশে এই পরজীবীর সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে বিড়াল পোষা মানুষের সুখের মাত্রা কিছুটা কম।

গবেষকদের তথ্যমতে, তথ্য বিশ্লেষণের সময় কিছু ব্যতিক্রমী বিষয়ও নজরে এসেছে। চীনে বিড়ালের ঘনত্ব কম থাকা সত্ত্বেও মানুষের সুখের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে, যেসব দেশে বিড়ালের সংখ্যা বেশি, সেখানে টক্সোপ্লাজমা গন্ডি পরজীবীর সংক্রমণের হার কম দেখা গেছে। গবেষণা ফলাফলের বিষয়ে মেক্সিকোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি রামোন দে লা ফুয়েন্তে মুনিজের জীববিজ্ঞানী হাভিয়ের আই বোরাজ–লেওন জানিয়েছেন, নতুন এ গবেষণায় বেশি বিড়াল থাকা মানেই পরজীবীর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। পোষা প্রাণীর সঠিক পরিচর্যা, পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক–অর্থনৈতিক অবস্থা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, শুধু বিড়াল পোষার কারণেই মানুষ সুখী হয় বা পরজীবীর কারণে মানুষ অখুশি থাকে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুখের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র থাকায় এ ধরনের গবেষণা জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভবিষ্যতে গবেষণায় সামাজিক–অর্থনৈতিক ও জৈবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এর মাধ্যমে নিখুঁত তথ্য পাওয়া যাবে এবং মানুষ কীভাবে আরও সুখী ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে, তার সঠিক দিকনির্দেশনা মিলবে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

Read full story at source