বিল থেকে ভেসে আসছিল দুর্গন্ধ, কচুরিপানা সরাতেই ভেসে উঠল লাশ

· Prothom Alo

অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে ১১ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল মনির হোসেন নামের এক কিশোর। নরসিংদীর রায়পুরার একটি বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

Visit newsbetting.bond for more information.

আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের শিকদারপাড়ার দরগাসংলগ্ন বড়বিল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য দুর্বৃত্তরা মনির হোসেনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বিলে ফেলে দিয়েছিল।

মনির হোসেন (১৭) রায়পুরার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া এলাকার শাহ আলম মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ দুপুরে আদিয়াবাদের শিকদারপাড়ার দরগাসংলগ্ন বিলের কাছে দুর্গন্ধ ভেসে আসছিল। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে কয়েকজন বিলে যান। তাঁরা কচুরিপানা টান দিতেই একটি লাশ ভেসে ওঠে।

এ খবর পেয়ে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। এরপর নিখোঁজ মনির হোসেনের পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এসআই রেজাউল করিম বলেন, পরনের কাপড় দেখে লাশটি শনাক্ত করেছেন স্বজনেরা। নিহত কিশোরের গলায় তারই কোমরের বেল্ট দিয়ে পেঁচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই মনির হোসেনের বেল্ট দিয়ে শ্বাস রোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার লাশ ওই বিলের কচুরিপানার নিচে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। ছিনিয়ে নেওয়া ওই অটোরিকশা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল আটটায় অটোরিকশা নিয়ে বের হয় মনির হোসেন। এরপর সে আর আর বাড়ি ফেরেনি। নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। আজ একটি লাশ উদ্ধারের খবর শুনেই পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরনের কাপড় দেখে লাশটি শনাক্ত করেন তাঁরা।

মনির হোসেনের বাবা শাহ আলম মিয়া বলেন, ‘অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য এইটুকু ছেলেকে মেরে ফেলতে হবে? ছেলেকে তো আর পাব না। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।’

Read full story at source