দেশের অর্ধেকের বেশি অক্সিজেন প্ল্যান্ট কাজে লাগছে না
· Prothom Alo
বাংলাদেশে বছরে ১৯ লাখ মানুষের মেডিক্যাল অক্সিজেনের তীব্র প্রয়োজন পড়ে। তবে এই প্রয়োজন কতটা মিটছে, তা দেখা হয় না। অর্ধেকের বেশি সরকারি অক্সিজেন প্ল্যান্ট কর্মক্ষম নয় বলে কাজে লাগছে না।
আজ শনিবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ অক্সিজেন সম্মেলনের প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশনে অক্সিজেন–বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। বাংলাদেশে অক্সিজেন নেটওয়ার্ক ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পপুলেশন সায়েন্স (সিএইচআইপিএইচ) এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলন হচ্ছে রাজধানীর আইইউবি ক্যাম্পাসে।
Visit extonnews.click for more information.
সম্মেলনের প্রথম বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে আয়োজন সংগঠন বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ও অক্সিজেন–বিষয়ক ল্যানসেট কমিশনের সদস্য আহমেদ এহসানূর রহমান বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেনের প্রয়োজনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। কিছু রোগে তীব্র প্রয়োজন—অস্ত্রোপচারে ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে।
এহসানূর রহমান বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, বাংলাদেশে বছরে বিভিন্ন রোগে ভোগা ১৯ লাখ মানুষের অক্সিজেনের তীব্র প্রয়োজন দেখা দেয়। এই রোগগুলোর তালিকায় আছে: নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ, হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির রোগ, আঘাত, সেপসিস, অকালিক জন্মে, ডায়রিয়া, হাম ও পার্টুসিস, ডেঙ্গু, পুষ্টিজনিত দুর্বলতা, নবজাতকের সংক্রমণ, নবজাতকের সেপসিন ও অন্যান্য সংক্রমণ, অ্যাজমা, যক্ষ্মা, এনকেফালাইটিস, টাইফয়েড, এনকেফালোপ্যাথি, মেনিঞ্জাইটিস, ম্যালেরিয়া এবং এইআইভ/এইডস।
প্রথম অধিবেশনে বেশ কয়েকটি অক্সিজেন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মেডিক্যাল অক্সিজেন উৎপাদন ও সরবরাহে তাঁরা কী করছেন, তার বর্ণনা দেন। অনেকে এটা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মেডিক্যাল অক্সিজেনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি বোঝা গেছে করোনা মহামারির সময়। মহামারির সময় হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, নতুন নতুন অক্সিজেন প্ল্যান্টও বসানো হয়েছিল। ওই সময় ইউনিসেফ ও ইউনাইটেড নেশানস অফিস ফর প্রোজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি ও সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য নানা সহযোগিতা করেছিল।
একই অধিবেশনে ইউএনওপিএসের সিনিয়র অ্যানালিস্ট মারুফ হাসান বলেন, দেশে সরকারি অক্সিজেন প্ল্যান্ট আছে ৯৯টি। এর মধ্যে ৩৮টি প্ল্যান্ট কর্মক্ষম। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি প্ল্যান্ট কর্মক্ষম। প্ল্যান্টগুলো চালানোর জন্য কার্যত কোনো জনবল নেই। কোনো কোনো প্ল্যান্ট দিনের মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা চলে।
দুপুরের পর দ্বিতীয় বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে শিশুস্বাস্থ্য–বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা মেডিক্যাল শিক্ষার স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে অক্সিজেন অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।
বিভিন্ন অধিবেশনে একাধিক নির্ধারিত বক্তা ও আলোচক অক্সিজেনকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ হিসেবে বর্ণনা করেন। কেউ বলেন, অক্সিজেন দেওয়ায় বিলম্ব হওয়ার অর্থ জীবনকে অস্বীকার করা। কেউ বলেন, অক্সিজেন পদ্ধতি এখন আধুনিক হাসপাতাল ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আজ সকালে দুই দিনের এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম তামিম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পপুলেশন সায়েন্সের (সিএইচআইপিএইচ) পরিচালক এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মালালা আহমেদজাই। আগামীকাল রোববার ঢাকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে দুই দিনের সম্মেলন শেষ হবে।