দুজনকে ক্রসফায়ার দেওয়ায় তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহকে ডেকে ভর্ৎসনা করি: সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন
· Prothom Alo

২০১৫ সালে বরিশাল ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ায় জেলাটির তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহকে ডেকে ভর্ৎসনা করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী মো. হুমায়ুন কবির। পুলিশের বরিশাল অঞ্চলের তৎকালীন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হুমায়ুন বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর অত্যন্ত আস্থাভাজন ও প্রিয় পাত্র ছিলেন এহসানউল্লাহ। পেশার বাইরে গিয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ফরমায়েশি কাজে এহসানউল্লাহ লিপ্ত ছিলেন।
ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী হুমায়ুন কবির।
Visit milkshakeslot.com for more information.
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতা যখন ক্রসফায়ারের শিকার হন, তখন বরিশাল অঞ্চলের ডিআইজি ছিলেন হুমায়ুন কবির। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন। তাঁর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই জবানবন্দি আমলে নেওয়ার জন্য আজ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাছে আবেদন করে প্রসিকিউশন। সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দিতে সাক্ষী হুমায়ুন কবির বলেন, ২০১৫ সালে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানা এলাকায় ফলবাহী গাড়িতে অজ্ঞাতনামা লোকজন আগুন দেয়। সে ঘটনায় ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া থানায় একটি মামলা হয়। মামলাটি বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ নিজে তদারকি করে কবির মোল্লা ও টিপু হাওলাদারকে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া থানা এলাকায় তাঁদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। সেদিন সকালে নিজ কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনাটি যখন জানতে পারেন, তখন এসপি এহসানউল্লাহকে অফিসে ডেকে বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি (সাক্ষী)। এসপিকে তিনি অপেশাদার কাজের জন্য ভর্ৎসনা করেন।
আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান বলেও উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি জবানবন্দিতে বলেন, ওসি মনিরুল তাঁকে বলেছিলেন, ভুক্তভোগী কবির ও টিপুকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার করলেও এসপির নির্দেশে তাঁদের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয়। এই দুজনকে ক্রসফায়ার দেওয়ার জন্য আগৈলঝাড়া থানার পুলিশকে বলেন এসপি। তবে তাঁরা রাজি হননি। পরে অন্য থানার পুলিশ দিয়ে তাঁদের দুজনকে হত্যা করেন এসপি।
অপেশাদার কাজের জন্য ২০১৫ সালে এসপি এহসানউল্লাহর এসিআরে বিরূপ মন্তব্য সংযোজনীসহ পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠান বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এটি এহসানউল্লাহর অপেশাদার কাজকর্মের প্রতি তাঁর খারাপ ধারণার দালিলিক প্রমাণ। শুধু তা-ই নয়, দুজনকে ক্রসফায়ার দেওয়ায় অপেশাদার এসপি এহসানউল্লাহকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রেঞ্জ থেকে অন্য জায়গায় বদলির জন্য অনুরোধ করেন। তাঁর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এহসানউল্লাহকে মাগুরায় বদলি করা হয়।
এসিআরে অত্যন্ত বিরূপ মন্তব্য করার পরও অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতি পেয়ে আবার বরিশাল অঞ্চলে এহসানউল্লাহ আসেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এহসানউল্লাহর খুঁটির জোর অত্যন্ত শক্ত ছিল। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর অত্যন্ত আস্থাভাজন ও প্রিয় পাত্র ছিলেন। পেশার বাইরে গিয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ফরমায়েশি কাজে লিপ্ত হন এহসানউল্লাহ। এমপির নির্দেশে তাঁদের (সাক্ষী তৎকালীন ডিআইজি) অগোচরে এহসানউল্লাহ অনেক কাজ করতেন।
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চার আসামির মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অপর দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আজ কারাগারে থাকা দুজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।