রেখাকে সম্মতি ছাড়া চুম্বন, ৫৭ বছর পর বিশ্বজিৎ বললেন, ‘চুম্বন এখন কিছুই না’
· Prothom Alo

১৯৬৯ সাল। তখনো বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করে উঠতে পারেননি রেখা। বয়সেও ছিলেন কিশোরী। সেই সময় অভিনেতা বিশ্বজিতের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি ‘দো শিকারি’ ছবিতে। ছবিটির শুটিংয়ের সময় একটি চুম্বনের দৃশ্য ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনা পরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থেকেছে। অভিযোগ, রেখার সম্মতি না নিয়েই ক্যামেরার সামনে তাঁকে চুম্বন করেছিলেন বিশ্বজিৎ। ঘটনাটিতে নাকি ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন অভিনেত্রী।
এত বছর পর সেই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন বিশ্বজিৎ। তবে ১৯৬৯ সালের সেই ঘটনার সময় তিনি রেখার সম্মতি নিয়েছিলেন কি না, সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সরাসরি সেই প্রশ্নের উত্তর দেননি। বরং তাঁর বক্তব্য, এখনকার সময়ে পর্দায় চুম্বন বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যকে আর তেমন বড় বিষয় হিসেবে দেখা হয় না।
Visit moryak.biz for more information.
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বজিৎকে রেখার সঙ্গে চুম্বনের পুরোনো ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে অভিনেতা বলেন, বর্তমান সময়ে ওই বিতর্কের আর কোনো গুরুত্ব নেই। তাঁর ভাষায়, ‘আজকের সময়ে পর্দায় চুম্বন কিছুই না।’
বিশ্বজিতের মন্তব্যে উঠে আসে বর্তমান সময়ের সিনেমার ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, এখনকার ছবিতে যেভাবে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখানো হয়, তা দেখে তিনি নিজেই বিস্মিত হন। এ প্রসঙ্গে ‘অ্যানিম্যাল’ ছবির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
‘দো শিকারি’র দৃশ্য। আইএমডিবিতবে সাক্ষাৎকারে বিশ্বজিতের কাছে যখন জানতে চাওয়া হয়, ওই ঘটনার পর রেখার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল কি না, তখন তিনি জানান, পরে তাঁরা আবার একসঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৭৬ সালের ‘কহতে হ্যায় মুঝকো রাজা’ ছবিতে রেখার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনি। অর্থাৎ ‘দো শিকারি’র সেই ঘটনার প্রায় সাত বছর পর আবার একই ছবিতে দেখা যায় দুই অভিনেতাকে।
‘রেখা স্পর্শ করতে নিষেধ করেননি’, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের স্মৃতিচারণা করলেন এই অভিনেতারেখাকে ঘিরে ১৯৬৯ সালের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে লেখক ইয়াসার উসমানের লেখা রেখার জীবনী ‘রেখা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ প্রকাশের পর। বইটিতে ‘দো শিকারি’র শুটিংয়ের সেই ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, চুমুর দৃশ্যটি সম্পর্কে রেখাকে আগে থেকে জানানো হয়নি। ক্যামেরা চালু হওয়ার পর বিশ্বজিৎ তাঁকে চুম্বন করেন। ঘটনার পর রেখা নাকি ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।
তবে এই ঘটনার বিষয়ে রেখা নিজে কখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত কথা বলেননি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে বর্ণনা প্রচলিত হয়ে এসেছে, তার মূল সূত্র ওই জীবনী ও পরবর্তী প্রতিবেদনগুলো।