হাজার মানুষের সঙ্গে একই রাস্তায়, একই রঙে
· Prothom Alo

একলা হাঁটার মতো একটা পাগলাটে স্বভাব আমার আছে। ঢাকা আসার পর অসংখ্যবার একা হাঁটতে বের হয়েছি। ১২-১৩ কিলোমিটার একা একা হেঁটে বাসায় ফিরেছি। তবে কখনো কোনো ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি।
সম্প্রতি সহকর্মী নাদিয়া নিতুল আপুর সহযোগিতায় তার্কিশ এয়ারলাইনস আয়োজিত অ্যাকটিভপ্লাস ইন্টারন্যাশনাল হাফ-ম্যারাথন ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করি। জীবনের প্রথম আর চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে এই ম্যারাথন। রেজিস্ট্রশনের পর থেকেই উদ্গ্রীব হয়ে ছিলাম। এই ব্যস্ত শহরে হাজার মানুষ একসঙ্গে দৌড়াব, এক রাস্তায় একই রকমের জামা পরে!
Visit asg-reflektory.pl for more information.
ছোটবেলার ঈদের মতো আনন্দ লাগছিল। সেই আনন্দের মাত্রা আরেকটু বেড়ে যায় যখন জানলাম, সহকর্মী শাকিব হাসান ও মাহাফুজার রহমানও রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এই খুশিতে কিট সংগ্রহ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলাম। গত বুধবার অফিস শেষ করে চলে যাই ঢাকা এয়ারপোর্টের ক্রাউন প্লাজায়। একটা জমকালো আয়োজন হতে যাচ্ছে, এটা বোঝা গেল উপস্থিত রানারদের সিরিয়াল দেখে। লাইন ধরে লাল-কালো রংয়ের একটা ছোট্ট কিউট ব্যাগ, টুকটুকে লাল টি-শার্ট, সিরিয়াল ব্যাচ, বিস্কুট, কেক উপহার নিয়ে ফিরলাম। অপেক্ষা শুক্রবার সকালের জন্য।
ভোর ৪টা ৫৫মিনিটে গুলশানের পুলিশ প্লাজায় পৌঁছালাম। হাতিরঝিলের এ প্রান্তরে যেন লাল রংয়ের মেলা বসেছে। রানাররা তিনটি দলে বিভক্ত। ৭ দশমিক ২ কিলোমিটার দৌড়ে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি। ১৪ দশমিক ৬৪ কিলোমিটারে অংশগ্রহণকারী তুলনামূলক কম। ২১ কিলোমিটারে অংশগ্রহণকারীও রয়েছেন বেশ কিছুসংখ্যক।
ম্যারাথন শুরু হলো সময়মতো। কেউ হালকা দৌড়াচ্ছেন, কেউ জোরে হাঁটছেন। পুরো হাতিরঝিল প্রদক্ষিণ করার আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে সবার একসঙ্গে হাঁটা এক অতুলনীয় রকমের সুন্দর লাগছিল। দেড়-দুই কিলোমিটার পরপর রানারদের জন্য স্যালাইন, ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক, খেজুর, কলা, লেবু ও আদার ব্যবস্থা ছিল। প্রায় সব বয়সী নারী-পুরুষকেই দেখতে পেলাম।
আমি ১৪ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে রেজিস্ট্রেশন করেছি। দুইবার হাতিরঝিল ঘুরতে হবে। প্রথম রাউন্ডে অনেক রানার থাকলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে তা ৭০ ভাগ কমে গেল। তবু একটা প্রত্যয়, একটা দৃঢ়তা আর ভালো লাগা কাজ করছিল। জীবনের প্রথম ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দুইবার হাতিরঝিল ঘুরে নিজের স্ট্যামিনা ও সহনশীলতার প্রতি বিশ্বাস আরেকটু বেড়ে গেল। সিদ্ধান্ত নিলাম, নিজের প্রতি আরেকটু যত্নশীল হতে নিয়মিত ম্যারাথনে অংশ নেব।
দপ্তর সম্পাদক, বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ