নোয়াখালীতে গাছ লাগানোর উৎসব

· Prothom Alo

নোয়াখালী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে পরিবেশ রক্ষায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম করেছে নোয়াখালী বন্ধুসভা। ছয় পর্বের এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের ১ হাজার ৬৬০টির বেশি গাছ রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি গাছের উপকারিতা, পরিবেশদূষণ, বৃক্ষনিধনের ক্ষতিকর প্রভাব এবং গাছ লাগানোর পর পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করেন বন্ধুরা।

গত ২২ জুন বেলা ১১টায় সদর উপজেলার পূর্ব রাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও গাছ বিতরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ বছরের কর্মসূচি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় গাছের চারা। একটি গাছ লাগানোর পর সেটিকে যত্ন করে বড় করে তোলার দায়িত্বও যে নিতে হবে, সেই বার্তা দেওয়া হয় তাদের। এই পর্বে ৩০০টি চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়।

Visit newsbetting.club for more information.

নোয়াখালী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

একই দিন বেলা একটায় মাইজদীর প্রভাতী শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় পর্ব। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সেখানে গাছ রোপণ ও বিতরণ করা হয়। গাছের সঙ্গে শিশুদের বন্ধুত্ব তৈরি এবং ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছ লাগান বন্ধুরা। চারা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয় খুদে শিক্ষার্থীরা। এই পর্বে মোট ১৬০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

পরদিন ২৩ জুন বেলা ১১টায় নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় পর্ব। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হয়। পরিবেশদূষণ, নির্বিচার বৃক্ষনিধন, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মানুষের জীবনে গাছের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। ২৫ জুন একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় ধাপে সচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। দুই ধাপে মোট ২৪০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

প্রথম তিন পর্বের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স। পরবর্তী পর্বগুলো নোয়াখালী বন্ধুসভার বন্ধু ও উপদেষ্টাদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়।

নোয়াখালী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

২৪ জুন বেলা ১১টায় সোনাপুর কলেজ ও সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ পর্ব। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে গাছ রোপণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায়ও গাছ লাগাতে পারে। এই পর্বে মোট ২৮০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

২ জুলাই সোনাপুরের আহম্মদিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম পর্ব। সেখানেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরিবেশদূষণ কমানো, বৃক্ষনিধন রোধ এবং লাগানো গাছের পরিচর্যার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়। এই পর্বে ৩৩০টি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়।

নোয়াখালী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

ষষ্ঠ পর্বে ২৪ আগস্ট নোয়াখালীর সদর উপজেলার কৃষ্ণরামপুর এলাকায় ২০০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়। এলাকাভিত্তিক বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করা হয় সবাইকে। প্রয়োজনে একটি গাছ কাটলেও তার বিপরীতে ১০টি গাছ যেন রোপণ করা হয়, এই ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নিজ আঙিনা হোক কিংবা এলাকার সড়কের পাশে গাছ লাগানোর সংকল্প করেন এলাকাবাসী।

এ ছাড়া নোয়াখালী বন্ধুসভার বন্ধুদের মধ্যে বিতরণ করা হয় ১৫০টি গাছের চারা। বন্ধুরা নিজ এলাকায়, নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছ লাগানো এবং যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

নোয়াখালী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

পুরো আয়োজন নিয়ে উপদেষ্টা লায়লা পারভীন বলেন, ‘গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়ার দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়। একটি গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার যত্ন নেওয়াও আমাদের দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই দায়িত্ববোধ তৈরি করতে পারলেই আজকের এই কর্মসূচি সত্যিকার অর্থে সফল হবে। নোয়াখালী বন্ধুসভার মাধ্যমে আমরা একটু হলেও নোয়াখালীতে গাছ লাগানোর উৎসব শুরু করতে পেরেছি।’

সাধারণ সম্পাদক সানি তামজিদ বলেন, ‘বৃক্ষরোপণকে আমরা শুধু একটি দিনের কর্মসূচি হিসেবে দেখতে চাই না। এটি আমাদের নিয়মিত সামাজিক দায়িত্বের অংশ। শিক্ষার্থীদের হাতে একটি করে গাছ তুলে দিয়ে আমরা মূলত তাদের হাতে ভবিষ্যতের একটি সবুজ পৃথিবীর দায়িত্ব তুলে দিচ্ছি। আজ যে গাছগুলো রোপণ করা হচ্ছে, সেগুলোর ছায়া ও সুফল আগামী প্রজন্ম ভোগ করবে।’

নোয়াখালী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

এবারের প্রতিটি পর্বেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিল সরাসরি যোগাযোগ। গাছ লাগানোর পাশাপাশি তাদের বোঝানো হয়েছে, একটি চারা শুধু মাটিতে রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। নিয়মিত পানি দেওয়া, পরিচর্যা করা এবং গাছটিকে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়াও বৃক্ষরোপণেরই অংশ। এভাবে শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করতে প্রতিটি পর্বে আয়োজন করা হয় ‘বৃক্ষবন্ধু’ নির্বাচন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কে বেশি গাছ লাগিয়েছে, কর্মসূচিতে কার অংশগ্রহণ সক্রিয় ছিল এবং গাছের প্রতি কার যত্ন ও আগ্রহ বেশি। এসব বিষয় বিচারকদের মূল্যায়নের মাধ্যমে বিবেচনা করে প্রতিটি পর্বে একজন করে শিক্ষার্থীকে বৃক্ষবন্ধু নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিতদের উপহার হিসেবে গাছ দেওয়া হয়।

কর্মসূচির প্রতিটি পর্বে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা লায়লা পারভীন, সুমন নূর, সভাপতি আসিফ আহমেদ, সহসভাপতি মো. শিমুল, সাধারণ সম্পাদক সানি তামজিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন চন্দ্র কুরী, অর্থ সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফাতেমা কানিজ, দপ্তর সম্পাদক জুনাইন কাউসার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য রুমাইয়া সুলতানা, সানজিদা সুলতানা, বন্ধু মালিহা তাবাসসুম, প্রিয়ারুল ইসলাম, সাকিবসহ অনেকে।

সভাপতি, নোয়াখালী বন্ধুসভা

Read full story at source