পাখির জন্য ভালোবাসা
· Prothom Alo

‘গাছে হাঁড়ি বাঁধা মমতার একটি কাজ। বর্তমানে পাখিদের প্রজনন মৌসুম চলছে। এপ্রিল-মে থেকে শুরু হওয়া এ মৌসুম নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে পাখিদের ডিম পাড়ার জন্য নিরাপদ জায়গার প্রয়োজন হয়। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। গাছে হাঁড়ি বাঁধার মাধ্যমে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করায় তাদের কষ্ট লাঘব হবে।’
পাখির অভয়ারণ্য তৈরির লক্ষ্যে দিনাজপুর বন্ধুসভার উদ্যোগে গাছে হাঁড়ি বাঁধা কর্মসূচিতে কথাগুলো বলেন জেলা ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. আশিকা আকবর তৃষা। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। ‘পাখি রক্ষা প্রকৃতির সুরক্ষা’ প্রতিপাদ্যে গত ৩১ আগস্ট দিনাজপুর সরকারি কলেজের ডলফিন চত্বরে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
Visit esporist.com for more information.
পাখির নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গাছে হাঁড়ি বেঁধে দিচ্ছেন বন্ধুরা।দিনাজপুর বন্ধুসভার সভাপতি শবনম মুস্তারিনের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্যে দিনাজপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পর্যাপ্ত বনাঞ্চল প্রয়োজন। কিন্তু দিন দিন বনাঞ্চল কমে আসছে। পাশাপাশি এমন অনেক গাছ রোপণ করা হচ্ছে, যেগুলো পাখিদের বাসা বাঁধার জন্য উপযোগী নয়। ফলে পাখিরা নিরাপদ আবাসস্থল হারাচ্ছে। এ অবস্থায় বন্ধুসভার এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিঞা বলেন, বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় বনাঞ্চল কম থাকায় অনেক পশুপাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। একসময় যেসব প্রাণী প্রকৃতিতে সহজেই দেখা যেত, এখন সেগুলো দেখতে মানুষকে চিড়িয়াখানায় যেতে হয়। বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিলুপ্তি রোধে অভয়ারণ্য তৈরির এ উদ্যোগ সময়োপযোগী।
কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছে ৫০টি হাঁড়ি বেঁধে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা।দিনাজপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, মানুষ যেমন প্রকৃতির অংশ, পাখিরাও তেমনি প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সবাইকে নিয়ে বাঁচতে পারলেই প্রকৃতির সৌন্দর্য পূর্ণতা পাবে। তিনি ভবিষ্যতেও বন্ধুসভার ভালো কাজের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পুরো দেশকে পাখির অভয়াশ্রমে পরিণত করে মানুষ ও পাখির সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আজ সবুজের ছায়ায়, প্রকৃতির মায়ায় অবস্থান করছি। পাখির কিচিরমিচির আমাদের মনকে আপ্লুত করে। পরিবেশবান্ধব প্রকৃতি হলে আমরাও ভালো থাকব।’
বক্তব্য শেষে অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা গাছে হাঁড়ি বাঁধার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এদিন কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছে ৫০টি হাঁড়ি বেঁধে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা।
সাধারণ সম্পাদক, দিনাজপুর বন্ধুসভা