কোচ বদলিয়েও টাকা ছড়ানোর স্বভাব গেল না ম্যানচেস্টার সিটির
· Prothom Alo

পুরো এক দশক পর ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে এসেছে পরিবর্তন। পেপ গার্দিওলা এখন আর সিটির বেঞ্চে নেই। নেই তাঁর ছকে বাঁধা খেলার ধরনও। সিটির ডাগআউটে জায়গা করে নিয়েছেন এনজো মারেসকা। গার্দিওলার সরাসরি শিষ্য মারেসকা দলটাকে সাজাতে চাইছেন নিজের মতো করে। আর সেটা করতেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন দলবদলের বাজারে।
Visit fish-roadgame.online for more information.
১০ বছরের দীর্ঘ যাত্রা শেষে গার্দিওলা অবকাশে যাবেন, এমনটা অনুমিতই ছিল। যে কারণে বছরের প্রথম দিন চেলসির চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন মারেসকা। সিটির চাকরির জন্য ছয় মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন, হিসাব কষেছেন কাকে কীভাবে কাজে লাগাবেন। তাই তো গার্দিওলার ফেলে যাওয়া কোচিং ব্যাজটা তুলেই নিয়েই শুরু করলেন ছুড়ি–কাঁচি চালানো। এতে অনেকের নাম যেমন কাটা পড়ল বোর্ড থেকে, তেমনই উচ্চ মূল্যে দলে ভিড়তে শুরু করলেন অনেকে। কেনাবেচার খেরোখাতায় নাম কাটা পড়ল কাদের? আর কাদের নিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করলেন মারেসকা? দেখে নেওয়া যাক একনজরে।
পেট ভরা, তবু ডেজার্ট খেতে চাই কেনপেপ গার্দিওলার ভরসা রদ্রিকে ছেড়ে দিয়েছে সিটি।কাদের ছাড়ল সিটি
এককথায় বলতে গেলে মারেসকার পরিকল্পনায় যাঁরা ছিলেন না, তাঁদের সবাইকে কোনো না কোনোভাবে বিদায় বলেছেন তিনি। যাকে বিক্রি করে পয়সা পাওয়া গেছে, তাঁকে বিক্রি করেছেন। যাঁর জন্য পয়সা পাওয়া যায়নি, তাঁকে পাঠিয়েছেন ধারে। মৌসুম শুরুর আগেই চুক্তি ফুরিয়ে এসেছিল বেনার্দো সিলভা ও জন স্টোনসের। তাঁদেরকে ফ্রিতেই ছেড়ে দিতে হয়েছে সিটির। সেই সঙ্গে খালি করে ফেলা হয়েছে পুরো মাঝমাঠ। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রদ্রিকে ৬০ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সেলোনায়, নিকো গঞ্জালেজকে ৫৬ মিলিয়ন ইউরোতে নিউক্যাসলে আর তিজানি রেইঞ্জার্সকে আল-কাদসিয়ায় ৬১ মিলিয়ন ইউরোতে বিক্রি করেছে সিটি। অথচ গত মৌসুমে নিকো-রেইঞ্জার্সের মাঝেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিল সিটি। এক মৌসুমের ব্যবধানে তিনি এখন অন্য দলের জার্সিতে।
সেন্টার ব্যাক জুটি নাথান আকে ও ম্যানুয়েল আকাঞ্জিকে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করেছে ফেনারবাচ ও ইন্টার মিলানে। জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার আগমনের পরই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ২৩ বছর বয়সী ইংলিশ গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ডের বিদায়। তিনিও ৪৭ মিলিয়ন ইউরোতে যোগ দিয়েছেন লিডসে।
আক্রমণভাগের দুই দামি তারকা ওমর মারমুশ ও জ্যাক গ্রিলিশকে কেনার জন্য ভালো কোনো দাম পায়নি সিটি। তাঁদেরকে পাঠানো হয়েছে ধারে। এক মৌসুম টটেনহাম ও এভারটনে খেলে সিটিতে ফিরতে হবে তাঁদের। চাইলে অবশ্য কিনেও রাখতে পারে, সেটা নির্ভর করছে সেই দলের ওপর। সেই সঙ্গে টুকিটাকি যুব দলের খেলোয়াড় বিক্রি করে সিটির খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় হয়েছে মোট ৩৩৭ মিলিয়ন ইউরো।
দলবদলে শেষ দিনে যত নাটকপুরোনো শিষ্য এনজো ফার্নান্দেজকে কিনতে রেকর্ড ভেঙেছেন মারেসকা।সিটিতে ভিড়লেন যারা
শেষ থেকেই শুরু করা যাক। ডেডলাইন ডের একেবারে শেষ মুহূর্তে দলবদলের মৌসুমের সবচেয়ে বড় চুক্তিটা করেছে সিটি। নিজের সাবেক খেলোয়াড় এনজো ফার্নান্দেজকে চেলসি থেকে তুলে এনেছে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে। প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে দামি দলবদল এখন এটাই। শুধু যে এনজো, তা কিন্তু নয়, নিজের পুরো মাঝমাঠকে বদলে ফেলেছেন মারেসকা। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ২৩ বছর বয়সী এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে ভিড়িয়েছেন। তাঁকে কিনতেও খরচ করতে হয়েছে ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা আইয়ুব বুয়াদ্দিকেও হাতছাড়া করেনি তারা। ৯৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে লিল থেকে মরোক্কান মিডফিল্ডারকেও ভিড়িয়েছে সিটি। শুধু মাঝমাঠের পেছনেই ৩৭৫ মিলিয়ন ইউরো খরচা গিয়েছে সিটির।
দুই উইংয়েই ডানা মেলেছে নতুন তারকা। এভারটন থেকে ৭০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ইলিমান দিয়ায়ে ও পালমেইরাস থেকে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার অ্যালানকে ভিড়িয়েছে ৩৭ মিলিয়ন ইউরোতে। এ ছাড়া দ্বিতীয় গোলরক্ষক হিসেবে আবারও সিটিতে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার জিরোনিমো রুল্লি। সব মিলিয়ে খরচের খাতায় যোগফল মিলে হয়েছে ৫২৬ মিলিয়ন ইউরো।
বোঝাই যাচ্ছে, প্রথম মৌসুম আসতে না আসতেই এনজো মারেসকার হাতে ব্ল্যাংক চেক তুলে দিয়েছিল সিটি। ছয় মাস ধরে করা পরিকল্পনায় যাকে চেয়েছেন, তাঁর জন্য ব্যাংক ভাঙতেও দ্বিধা বোধ করেননি। আর যাকে প্রয়োজন নেই, তাঁকে শুরুতেই বলে দিয়েছেন বিদায়। তাই তো প্রথম মৌসুমেই কেনা-বেচার হিড়িক লেগেছে দলে। এখন দেখার বিষয় এই কেনাবেচা কতটা কাজে লাগে সিটির।
অবশেষে নতুন দলের দেখা পেলেন এমি মার্তিনেজ