চীনের এই কালো ডিমকে ‘শতবর্ষী ডিম’ বলা হয় কেন

· Prothom Alo

শিরোনাম শুনে খুব অবাক লাগছে, তাই না?

Visit mwafrika.life for more information.

এমনই ডিম চীনের মানুষের একটি জনপ্রিয় খাবার। এক শ বছর ধরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে একটি ডিম? না, এটা এক শ বছর পুরোনো কোনো ডিমের কথা বলছি না। চীনের এই অদ্ভুত খাবারটি এক শ বছর পুরোনো তো নয়ই, বরং এটি একটি ডিম সংরক্ষণের পদ্ধতি। এই ডিমের খোলস সম্পূর্ণ কালো। সাদা অংশ কালো জেলির মতো ও কুসুম নরম ক্রিমের মতো। চীনা ভাষায় যা পরিচিত পিদান নামে, আর ইংরেজিতে বলা হয় সেঞ্চুরি এগ।

এর ইতিহাসটাও বেশ পুরোনো। চীনে কয়েক শতাব্দী ধরে মানুষ এই পদ্ধতিতে ডিম সংরক্ষণ করে আসছে। বিশেষ করে মিং রাজবংশের আমলে প্রচলিত কাহিনিতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। মাটি ও কাঠের ছাই ব্যবহার করার পরে কালো রঙে পরিণত হওয়া ডিমকেই বলা হয় শতবর্ষী ডিম। মূলত এটি মধ্য চীনের হুনান প্রদেশে মিং রাজবংশের শাসন আমলে প্রায় ৬০০ বছর আগে এই পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছিল।

প্রশ্ন আসতেই পারে, কীভাবে একটি সাধারণ ডিম এমন কালো রূপ নেয়? আসুন, সেটাই জানি এখন।

প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় হাঁস, মুরগি অথবা কোয়েলের ডিম, ছাই, লবণ, কুইক লাইম বা ক্যালসিয়াম অক্সাইড এবং ধানের খোসা।
মাটি, কাঠের ছাই, ক্যালসিয়াম অক্সাইড এবং লবণ দিয়ে ডিমকে প্লাস্টার করা হয়। কাদা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় এবং বেশ কয়েক মাস ধরে এটি ভূত্বকে শক্ত হয়ে জমাট বাঁধে। ফলে ডিমগুলো কালো রং ধারণ করে এবং তা খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। তা ছাড়া ফুটন্ত পানিতে ৩ পাউন্ড চা, ক্যালসিয়াম অক্সাইড, ৯ পাউন্ড সৈন্ধব লবণ এবং পোড়া ওক থেকে ৭ পাউন্ড ছাইয়ের একটি পেস্ট বানিয়ে ডিমের ওপর প্লাস্টার করা হয়। এরপর একটি ঝুড়িতে ধানের খোসা রেখে তার মধ্যে প্লাস্টার করা ডিমগুলো সংরক্ষণ করা হয়; যা কয়েক দিনের মধ্যেই রূপান্তরিত হয় কালো রঙের শতবর্ষী ডিমে। প্লাস্টারিংয়ের সময় অবশ্যই গ্লাভস ব্যবহার করা জরুরি।

মেরুভালুকের ঘুম ভাঙানোয় এক ব্যক্তির সাড়ে ৬ লাখ টাকা জরিমানাকালো ডিম

খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে সাইড ডিশ হিসেবে এই ডিম খাওয়া হয়। তা ছাড়া বিভিন্ন ডিশ বানিয়েও খাওয়া হয় এই ডিম।
অনেকেই মনে করেন, ছোট বাচ্চাদের মূত্র অথবা ঘোড়ার মূত্রে ভিজিয়ে রেখে তৈরি করা হয় শতবর্ষী ডিম, যা পুরোপুরি একটি ভুল ধারণা।

শতবর্ষী ডিমের এই অদ্ভুত চেহারা ও গন্ধের পেছনে কোনো রহস্যময় কারণ নয়, বরং কয়েক শতাব্দী পুরোনো একটি সংরক্ষণকৌশল এবং ডিমের ভেতরে ঘটে যাওয়া জটিল রাসায়নিক পরিবর্তনই মূল কারণ।
এই ডিমের নামটি যতটা রহস্যময়, তেমনই ভেতরের গল্পটি ততটাই বৈজ্ঞানিক।

Read full story at source