অনৈতিক সম্পর্কের কথা জানার পর গাজী নজরুল প্রলোভন দেখান: গাড়িচালক ওবায়দুর
· Prothom Alo

অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে ফেলার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) প্রলোভন দেখান। পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে বলে আশ্বাস দেন। গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন।
Visit saltysenoritaaz.org for more information.
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে দুপুর ১২টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান এমন দাবি করেন। ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার দাবি ও হামলার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ওবায়দুর রহমান গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারীর পাশাপাশি গাড়িচালকের কাজ করতেন। গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। আলোচনায় ওঠার পর গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। ওই তরুণীর আত্মীয় ওবায়দুর।
গাজী নজরুল সে সময় অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাঁকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ওবায়দুর রহমান। ভিডিও ফাঁসও তিনিই করেছেন।
ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তখন গাজী নজরুল তাঁকে প্রথমে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি গাড়িচালক হিসেবে চাকরির প্রস্তাবও দেন। তিনি অর্থের প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও তরুণীর নিরাপত্তা ও অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের কথা বিবেচনা করে গাড়িচালকের কাজ নেন।
ওবায়দুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই তিনি গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন। এ সময় তিনি গাজী নজরুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান বলেন, গত ১৮ জুন তিনি প্রথম তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। পরে ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তখন গাজী নজরুল সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন।
ওবায়দুরের দাবি, ওই সময় গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে তাঁকে কিছু টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং তাঁকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। তিনি টাকা নেননি।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর আরও বলেন, গত ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপে এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান তিনি। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের একজনের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তাঁর ওপর হামলা চালান এবং তাঁকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দিবাগত রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
ওই ঘটনার পর ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। ওবায়দুরের দাবি, মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তরিত হয় এবং কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত তাঁদের জামিন দেন।
‘মেয়েটির বাবাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল, স্বপ্ন দেখান কোটিপতি বানানোর’এর মধ্যে ২ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তাঁর বোন ও তরুণীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।
ওবায়দুর রহমান বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মা ও পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। এসব ঘটনায় ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।