জীবন ও মৃত্যু হলো আল্লাহর আনুগত্যের পরীক্ষা

· Prothom Alo

ইহলোকে জন্ম ও জীবন যেমন বাস্তবতা, তেমনি মৃত্যু ও পরলোকান্তরও মানবজীবনের নিশ্চিত সত্য। আল্লাহ–তাআলা আমাদের এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য। কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘প্রাচুর্যময় তিনি, যিনি সৃষ্টি করেছেন জীবন ও মৃত্যু, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন, তোমাদের মধ্যে কে কর্মে উত্তম।’ (সুরা-৬৭ মুলক, আয়াত: ২)

যারা জীবন ও মৃত্যুর রহস্য অনুধাবনে ব্যর্থ হন এবং সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করেন, তাদের উদ্দেশে আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমরা কীভাবে আল্লাহকে অস্বীকার করো? অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ, অতঃপর তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন, তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দেবেন, পুনরায় জীবন দান করবেন এবং অবশেষে তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২৮)

Visit turconews.click for more information.

জীবন ও মৃত্যুর একমাত্র মালিক আল্লাহ জাল্লা শানুহু। কোরআন মাজিদে বলা হয়েছে, ‘তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান, রাত ও দিনের আবর্তনও তাঁরই নিয়ন্ত্রণে।’ (সুরা-২৩ মুমিনুন, আয়াত: ৮০) পুনরুত্থান সম্পর্কে আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে রাসুল, আপনি বলুন, যিনি প্রথমবার তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তাদের পুনরায় জীবিত করবেন। আর তিনি সব সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত।’ (সুরা-৩৬ ইয়াছিন, আয়াত: ৭৯)

অহংকারমুক্ত জীবন সফলতার সহায়ক। অন্যদিকে অহংকার মানবজীবনে পতনের কারণ। মানুষের জীবন আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতে পরিপূর্ণ। যারা নিয়ামত পেয়ে অহংকারী হয়ে ওঠেন, তাদের ধ্বংস অনিবার্য।

এই আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন করেছেন। যারা পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করতেন, তাদের উদ্দেশে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যিনি প্রথমবার মানুষকে অস্তিত্বহীন অবস্থা থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, তাঁর জন্য মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করা মোটেও কঠিন নয়। বরং প্রথম সৃষ্টি এবং পুনঃসৃষ্টি—উভয়ই তাঁর অসীম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।’ (তাফসিরুল ওয়াসিত, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯২; মাজমাউল বুহুসিল ইসলামিয়া, আল আজহার, মিসর, ১৯৯২)

মানুষের জীবনের শুরু রুহের জগতে। আর আমাদের গন্তব্য পরকাল বা আখিরাত। সেখানে আমরা দুনিয়ার জীবনের কর্মফল লাভ করব। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই ইবাদতের উদ্দেশ্য। ইবাদত মানে আনুগত্য; অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।

আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম আমলকারী সেই ব্যক্তি, যার অন্তরে তাকওয়া আছে। যিনি নিজেকে পাপ থেকে বাঁচিয়ে রাখেন এবং আল্লাহর আনুগত্যে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকেন। রাসুলে কারিম (সা.) বলেন, ‘তুমি আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইবাদতকারী হতে পারবে।’ (সুনানে তিরমিজি, ২৩০৫)

ইবাদত বা আমল কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো ইমান ও ইখলাস। নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমার ইমানকে খাঁটি করো, অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে।’ (বায়হাকি, শুআবুল ইমান, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৩৩৭)

মৃত্যু হলো পরকালীন জীবনে প্রবেশের পথ। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবন থেকে চিরস্থায়ী আখিরাতের জীবনে যাওয়ার সেতুবন্ধ হলো মৃত্যু। মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত সময়কে বলা হয় বারজাখের জীবন। কিয়ামতের পর শুরু হবে আখিরাতের চিরস্থায়ী জীবন।

আল্লাহ সব মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন এবং প্রত্যেককে তাঁর কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে। সেদিন কারও বংশগৌরব, জাত-কৌলীন্য, পদমর্যাদা, ধনসম্পদ, ক্ষমতা, প্রভাব বা প্রতিপত্তি কোনো কাজে আসবে না। উপকারে আসবে শুধু বিশুদ্ধ বিশ্বাস ও সৎকর্ম।

যাঁরা আল্লাহর নির্দেশ মেনে জীবন পরিচালনা করেছেন, তাঁদের জন্য থাকবে চিরশান্তির নিবাস জান্নাত। আর যাঁরা অবাধ্যতা ও পাপাচারে জীবন অতিবাহিত করেছেন, তাঁদের জন্য থাকবে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।

আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের কর্মফল পূর্ণরূপে প্রদান করা হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই প্রকৃত সফলকাম। আর দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (সুরা-৩ আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)

তাই আমাদের আমৃত্যু আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যে জীবন কাটাতে হবে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, নিশ্চিত বিশ্বাস বা মৃত্যু আসা পর্যন্ত।’ (সুরা-১৫ হিজর, আয়াত: ৯৯)

অহংকারমুক্ত জীবন সফলতার সহায়ক। অন্যদিকে অহংকার মানবজীবনে পতনের কারণ। মানুষের জীবন আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতে পরিপূর্ণ। যারা নিয়ামত পেয়ে অহংকারী হয়ে ওঠেন, তাদের ধ্বংস অনিবার্য।

  • অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

    সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

    [email protected]

Read full story at source