টিকটিকি দেখে আপনিও কি ভয় পান? কারণটা জানুন

· Prothom Alo

আজ বিশ্ব লিজার্ড দিবস। এই প্রজাতির মধ্যে আমাদের অতিপরিচিত টিকটিকিও আছে। ঘরের দেয়ালে থাকা ছোট্ট এই প্রাণীটি একেবারেই নিরীহ। তারপরও টিকটিকি দেখলেই অনেকের মনে তৈরি হয় ভয় বা অস্বস্তি। কিন্তু কেন?

Visit raccoongame.org for more information.

লিজার্ড কারা?

বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, সরীসৃপদের আলাদা আলাদা ভাগে রেখেছেন প্রাণীবিজ্ঞানীরা। এমনই একটি ভাগে আছে লিজার্ডরা। অর্থাৎ লিজার্ড হলো কিছু নির্দিষ্ট ধরনের সরীসৃপ। অন্যান্য সরীসৃপের সঙ্গে এদের কিছু বিশেষ পার্থক্য আছে। অধিকাংশ লিজার্ডের পা থাকে, দেহের বাইরে শ্রবণযন্ত্রের ছিদ্র থাকে এবং তাদের চোখের পাতা নড়ে। কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে।
পৃথিবীজুড়ে সাড়ে সাত হাজারের বেশি প্রজাতির লিজার্ড আছে। এর মধ্যে আমাদের সবচেয়ে চেনা হলো টিকটিকি, যাকে নিজের ঘরের বাসিন্দাও বলতে পারেন! আমাদের চেনা–জানা প্রাণীর মধ্যে গিরগিটি, তক্ষক আর গুইসাপও লিজার্ড।

বুঝতেই পারছেন, গুইসাপের নামে আমরা ‘সাপ’ জুড়ে দিলেও সে বেচারা আদতে সাপই নয়। লিজার্ডের তালিকায় ইগুয়ানা, স্কিংক আর কোমোডো ড্রাগনও আছে। এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা লিজার্ডদের মধ্যে সবচেয়ে বিশালদেহী হলো কোমোডো ড্রাগন। এর বিষ আছে। তবে কুমির বা অ্যালিগেটর আবার লিজার্ড নয়।

মুরগির হাড় চিবানো আসলেই কি ভালো

টিকটিকিকে কেন ভয়?

সাধারণ টিকটিকিকে ইংরেজিতে বলা হয় হাউস লিজার্ড বা হাউস গেকো। অনেক সময় কেবল লিজার্ড হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয় টিকটিকিকে। তবে বনে বাস করে এমন লিজার্ডের চেয়ে ঘরের টিকটিকির স্বভাব অনেকটাই আলাদা। ঘরের টিকটিকি সাধারণত কোনো মানুষকে কামড়ে দেয় না। মানুষের শরীরে কোনো ক্ষতিকর বিষও দিয়ে দেয় না।

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হক জানালেন, আলাদা কোনো কারণ না থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর প্রতি ভয় কাজ করতে পারে একজন মানুষের মনে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এমন ভয়কে বলা হয় ফোবিয়া। তবে শৈশবের কিছু ঘটনাও টিকটিকি ভীতির জন্য দায়ী হতে পারে। এমন কয়েকটি পরিস্থিতির কথা জানালেন তিনি, যা পরবর্তী সময় টিকটিকি–ভীতি গড়ে ওঠার কারণ হতে পারে-

  • একটি টিকটিকি কখন দ্রুত চলবে কিংবা কখন থেমে যাবে, তা আমরা অনুমান করতে পারি না। এমন একটা প্রাণী, যা দেখতে খুব একটা আকর্ষণীয়ও নয়, হঠাৎ দ্রুতগতিতে দৃষ্টিসীমার মধ্যে চলে এলে একটি শিশু ভয় পেতে পারে। হয়তো ঘড়ির আড়ালে থাকা টিকটিকি হুট করে এসে একটা ছোট্ট পোকা খেয়ে নিল। এটাই কারও কারও জন্য ভয়ের স্মৃতি হয়ে রয়ে যেতে পারে।

  • আবার হুট করে কোনো শিশুর গায়ে যদি একটি টিকটিকি এসে পড়ে, চমকে উঠতে পারে সে। তার সামনে কারও গায়ে এভাবে টিকটিকি এসে পড়লেও ভয় পেতে পারে সে।

  • কিংবা শৈশবেই যদি সে অন্য কারও টিকটিকি–ভীতির ব্যাপারটা টের পায়, তাহলেও তার টিকটিকি–ভীতি হতে পারে।

ভয় যখন অতিরিক্ত

কারও যদি টিকটিকি–বিষয়ক ভয় অতিরিক্ত মাত্রায় থাকে, তাহলে রোজকার জীবনে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। তিনি হয়তো একটা ঘরে কেবল টিকটিকির অবস্থানের কারণেই ভয় পেতে পারেন। মনের ভয়টা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেলে একজন মনোবিদের শরণাপন্ন হওয়া ভালো।

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, শেষ পর্যন্ত ঘটেছিল উল্টোটা

Read full story at source