কেন ইতালিকে ‘না’ বলেছিলেন গার্দিওলা, জানালেন মালদিনি
· Prothom Alo

গত সপ্তাহে এক দুপুরের কথা। স্পেনের বার্সেলোনায় উড়ে গিয়ে পেপ গার্দিওলার সঙ্গে দেখা করেছিলেন পাওলো মালদিনি ও লিওনার্দো। মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে সারা দিন চলেছিল বৈঠক। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল গার্দিওলাকে ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব নিতে রাজি করানো।
Visit tr-sport.bond for more information.
ইতালির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন গার্দিওলা, দৌড়ে এগিয়ে পিরলোইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়েরে দেলা সেরা’-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সেই অজানা গল্প শুনিয়েছেন সাবেক এসি মিলান কিংবদন্তি মালদিনি। তিনি জানান, ইতালির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ও লিওনার্দো সবচেয়ে আগে ফোন করেছিলেন গার্দিওলাকেই।
যদিও শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে নীতিগত দ্বিমতের কারণে পদত্যাগ করেন মালদিনি ও লিওনার্দোও।
গার্দিওলাকে নিয়ে একটি গুঞ্জন চাউর হয়েছিল। তিনি নাকি বার্ষিক দুই কোটি ইউরো পারিশ্রমিক দাবি করেছিলেন।
সাক্ষাৎকার এই তথ্য সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মালদিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গার্দিওলা নিজেই তাঁদের বলেছিলেন, ইতালির সর্বশেষ কোচ যা পারিশ্রমিক পেতেন, তার চেয়ে ১ ইউরো কম দিলেও তিনি কাজ করতে রাজি।
তাহলে বাধাটা ঠিক কোথায় ছিল? মালদিনি জানান, মূল কারণ ছিল মানসিক ক্লান্তি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা ১০ বছর কাজ করার পর গার্দিওলার কিছুটা বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল। তা সত্ত্বেও তিনজনের আলোচনা থেমে থাকেনি।
পাওলো মালদিনিঅনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায় থেকে শুরু করে মূল দল, সব স্তরের ফুটবল নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন তাঁরা। গার্দিওলা নাকি কাগজের পাতায় দলের সম্ভাব্য ফরমেশন আঁকতেও শুরু করে দিয়েছিলেন। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত অনেক ভেবেচিন্তে ‘না’ বলে দেন এই স্প্যানিশ কোচ।
সেই বার্সেলোনার দুপুরে গার্দিওলা সবচেয়ে বেশি কথা বলেছিলেন তাঁর গুরু ইয়োহান ক্রুইফকে নিয়ে। গার্দিওলা স্মরণ করিয়ে দেন, আজ স্পেন যে ফুটবল–প্রতিভা তৈরি করছে, তার মূল ভিত্তি ক্রুইফের সেই ফুটবল-দর্শন। মালদিনি জানান, ইতালির ফুটবলেও তাঁরা ঠিক সেই পথেই হাঁটতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
গার্দিওলা ছাড়াও কার্লো আনচেলত্তির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন মালদিনি। সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তিকে সর্বকালের সেরা ইতালিয়ান কোচ ও নিজের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন মালদিনি। তবে সেই প্রস্তাবের জবাব এসেছিল দ্রুত। আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্রাজিল ফুটবল দল তাঁর ওপর আস্থা রাখায় এই প্রস্তাব গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
গার্দিওলা ও আনচেলত্তির দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিকল্প পথ খোঁজেন মালদিনি ও লিওনার্দো। তাঁরা নজর দেন ২০০৬ সালের তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তারকা আন্দ্রেয়া পিরলো, দানিয়েলে দে রসি ও ফাবিও গ্রোসোর দিকে।
পাওলো মালদিনিপিরলো তো প্রায় দায়িত্ব পেয়েই গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের কারণে পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়। ইতালির জাতীয় দলের দায়িত্বে আবার ফেরেন রবার্তো মানচিনি। আর সেই সঙ্গে ইতালি ফুটবল ফেডারেশন থেকে বিদায় নিতে হয় মালদিনিকেও।