গর্ভাবস্থায় উড়োজাহাজে ভ্রমণ কতটা নিরাপদ
· Prothom Alo

বর্তমান যুগে কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক প্রয়োজনে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকেও নানা জায়গায় ভ্রমণ করতে হয়। দূরপাল্লার উড়োজাহাজ ভ্রমণও এর মধ্যে পড়ে। অনেকেই দ্বিধায় পড়েন যে অন্তঃসত্ত্বা নারীর উড়োজাহাজ ভ্রমণ কতটা নিরাপদ?
Visit betsport.cv for more information.
কখন নিরাপদ
যদি মা ও গর্ভস্থ শিশুর কোনো জটিলতা না থাকে, তবে উড়োজাহাজে ভ্রমণ মোটামুটি নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় এমন ভ্রমণে সময়ের আগে প্রসব, পানি ভেঙে যাওয়া বা প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) আলাদা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ার কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ৩৭ সপ্তাহের পর উড়োজাহাজে ভ্রমণ না করাই উচিত। গর্ভে যমজ সন্তান থাকলে এই সময় আরও আগে ধরতে হবে, ৩২ সপ্তাহ পর্যন্ত।
শারীরিক কী কী পরিবর্তন হয়
কেবিনে বায়ুচাপ কম থাকে বলে উড়োজাহাজে ভ্রমণের একটা প্রভাব যে কারও শরীরে পড়ে। বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় মুখ–নাক শুষ্ক হয়। কানের ভেতর চাপ তৈরি হয়, কারও কান বন্ধ হয় ও ব্যথা করে। অনেকেরই বমি ভাব, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হতে পারে। কারও পা ফুলতে পারে। অন্য সবার মতো সাধারণত এসব প্রতিক্রিয়া ঝুঁকিমুক্ত গর্ভবতী নারীর বড় সমস্যা সৃষ্টি করে না। কিন্তু অধিক ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী নারীর জন্য এসব সমস্যা জটিল হতে পারে।
নিউইয়র্কে নীল পরি হয়ে ঘুরছেন মেহজাবীন চৌধুরী, দেখুন ৯টি ছবিরক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি
গর্ভাবস্থায় এমনিতেই রক্তের ঘনত্ব বাড়ে। যাকে হাইপারভিসকোসিটি বলা হয়। দীর্ঘ ভ্রমণে (চার ঘণ্টার বেশি) এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। ঝুঁকি কমাতে প্রতি ৩০ মিনিট পরপর পা নাড়াতে হবে, হাঁটু ভাঁজ করে ব্যায়াম করতে হবে—যাতে পায়ে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে। সুযোগ পেলে মাঝেমধ্যে কেবিনের ভেতর হাঁটাহাঁটি করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে।
দীর্ঘ ভ্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে কম্প্রেশন স্টকিংস পরতে পারেন। যাদের রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা, যেমন ভেনাস থ্রম্বোএমবলিজম বা ডিপ ভেইন থ্রম্বসিস অথবা থ্রম্বোফিলিয়ার উচ্চ ঝুঁকি আছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পাতলাকারক ওষুধ, যেমন লো মলিকুলার ওয়েট হেপারিন ব্যবহার করতে পারেন।
কাদের এড়ানো ভালো
গুরুতর রক্তস্বল্পতা (হিমোগ্লোবিন প্রতি ডেসিলিটারে ৭ দশমিক ৫ গ্রামের কম); সাম্প্রতিক কালে রক্তক্ষরণের ইতিহাস; গুরুতর হৃদ্রোগ; সিকল সেল ক্রাইসিস; গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত রোগ; কানের বা সাইনাসের তীব্র সংক্রমণ; ভাঙা পা (প্লাস্টারসহ); অতিরিক্ত পা ফোলা—এসব সমস্যার কোনোটি থাকলে উড়োজাহাজে ভ্রমণ এড়ানো ভালো।
এ ছাড়া অকালপ্রসবের ঝুঁকি; পানি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি; গুরুতর প্রি একলাম্পসিয়া; প্লাসেন্ট প্রিভিয়া থেকে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি; জটিল যমজ গর্ভাবস্থা ও গর্ভের শিশুর কম ওজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উড়োজাহাজে ভ্রমণ করা উচিত নয়।
ছুটির দিনে ঘুরে আসুন পুরান ঢাকার এই ১০ ঐতিহাসিক স্থান থেকে