সবজির বাজারে বন্যার প্রভাব, দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা
· Prothom Alo

চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেটের কর্ণফুলী কমপ্লেক্স কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ভিড়। এক হাতে বাজারের ব্যাগ, অন্য হাতে মুঠোফোন নিয়ে সবজির দোকানে দোকানে ঘুরছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সবজি কিনেই মুঠোফোনের ক্যালকুলেটরে হিসাব করে টাকা দিচ্ছেন বিক্রেতাকে। আজ শুক্রবার সকালে বাজারে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের সবজিতে হাত দিলেই এখন ১০০ টাকা । কাঁচা মরিচ তো কেনা দায়। সপ্তাহের বাজার করতে এখন আগের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি লাগছে। এভাবে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
Visit een-wit.pl for more information.
টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকার সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। উৎপাদন কমেছে। তাই বাজারে সরবরাহও কমে গেছে। সরবরাহ না বাড়া পর্যন্ত দামের খুব একটা পরিবর্তন হবে না।
—শারমিন আক্তার, গৃহিণী, চট্টগ্রাম।কয়েক সপ্তাহ আগেও বাজারে এলে পরিবারের জন্য অন্তত পাঁচ-ছয় রকম সবজি কিনেছি। এখন দুই-তিন রকম কিনেই চলে যেতে হচ্ছে। আবার ভালোমানের সবজিও পাওয়া যাচ্ছে না।সরেজমিন কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজার এবং আশপাশের অস্থায়ী ভাসমান হাট ঘুরে দেখা যায়, সব বাজারেই ক্রেতাদের প্রথম প্রশ্ন, ‘দাম কত?’ আর উত্তর শুনেই অনেককে ফিরে যেতে দেখা যায়। দামের কারণে কেউ এক কেজির বদলে আধা কেজি, কেউ আধা কেজির বদলে ২৫০ গ্রাম সবজি কিনছেন।
চকবাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ‘মাছ-মাংসের দাম আগেই বেশি ছিল। এখন সবজির দামও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও বাজারে এলে পরিবারের জন্য অন্তত পাঁচ-ছয় রকম সবজি কিনেছি। এখন দুই-তিন রকম কিনেই চলে যেতে হচ্ছে। আবার ভালোমানের সবজিও পাওয়া যাচ্ছে না।’
নগরের কাজীর দেউড়ির সবজি বাজারে বেচাকেনা চলছে। গতকাল বিকেলেকাজীর দেউড়ি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আবদুল কাদের বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও যে সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটির দাম ১০০ টাকার বেশি। ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ বাজার করতাম, এখন তা ৮০০-৯০০ টাকার কমে হচ্ছে না।’
এক সপ্তাহ আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, কাঁকরোল ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের কাঁচা মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। তবে বাজারভেদে দামে ৫-১০ টাকা পার্থক্য দেখা গেছে।
বাজারগুলোয় প্রতি কেজি বেগুন ১২০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।
এক সপ্তাহ আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, কাঁকরোল ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের কাঁচা মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। তবে বাজারভেদে দামে ৫-১০ টাকা পার্থক্য দেখা গেছে।
চকবাজার খালপাড়ের সবজি বিক্রেতা বাবুল বলেন, ‘আড়তে গিয়ে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যায়, সেটাও অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করতে পারি না। তাই বাধ্য হয়েই বাড়তি দাম রাখতে হচ্ছে।’
বিক্রেতারা জানান, বন্যায় দোহাজারী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, নাজিরহাটসহ পার্বত্য জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে।
জানতে চাইলে রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমে গেছে। আজ আড়তে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা কেজি দরে। বাকি সব সবজির দামও বাড়তি। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বাড়লে আশা করা যায়, সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে দামের কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।’