বদলে যাওয়া চাকরি–সংস্কৃতি: কর্মীর আস্থা ও দক্ষতায়ই টিকবে প্রতিষ্ঠান

· Prothom Alo

একসময় তরুণ পেশাজীবীদের কাছে ক্যারিয়ারের সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি ছিল দ্রুত পদোন্নতি, বেশি বেতন আর ঘন ঘন কর্মস্থল বদল। কিন্তু ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার সেই হিসাব অনেকটাই বদলে দিয়েছে। এখন অনেক কর্মীর কাছে নতুন চাকরির চেয়ে বর্তমান চাকরির স্থায়িত্বই বড় বিষয়।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনেও এসেছে নতুন বাস্তবতা। শুধু লক্ষ্য পূরণের চাপ দিয়ে কর্মীদের কাছ থেকে সেরা কাজ আদায় করা যায় না। কর্মীদের আস্থা অর্জন, দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি এবং মানবিক নেতৃত্বই এখন প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার বড় শর্ত।

Visit betsport.cv for more information.

বিশ্বখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই পরিবর্তিত কর্মসংস্কৃতির চিত্র উঠে এসেছে। মার্কিন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান মনস্টার ডটকমের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৭ শতাংশ কর্মী ২০২৬ সালে বর্তমান প্রতিষ্ঠানেই থাকার পরিকল্পনা করছেন। ডেলয়েটের বৈশ্বিক এক সমীক্ষাতেও দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্ম এখন সাময়িক সুবিধার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৫০ শতাংশ চাকরিপ্রার্থী কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছেন। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বুঝতে পারছে, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মানুষের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই অনেক ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করে।

বাংলাদেশের চাকরির বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিশ্চয়তার সময়ে কর্মীদের শুধু ভয় দেখিয়ে ধরে রাখা যায় না। কারণ, ভয়ে কাজ করা কর্মী হয়তো সময়মতো অফিসে আসবেন, কিন্তু নতুন ধারণা দেওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলবেন।

আস্থা থাকলে বাড়ে কাজের গতি

চাকরি থাকবে তো? আগামী মাসের বেতন ঠিকমতো হবে তো? বছর শেষ ভালো ইনক্রিমেন্ট? অনিশ্চিত সময়ে এমন প্রশ্ন অনেক কর্মীর মনেই ঘুরে বেড়ায়। এই চাপ ধীরে ধীরে কাজের মানেও প্রভাব ফেলে।

একটি বিপণন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘চাকরি হারানোর ভয় বেশি থাকলে কর্মীরা নতুন কিছু করার ঝুঁকি নিতে চান না। কিন্তু প্রতিষ্ঠান পাশে আছে—এই বিশ্বাস তৈরি হলে কাজের প্রতি মনোযোগ ও বিশ্বস্ততা বাড়ে।’

রিদওয়ানুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপকনিয়োগপদ্ধতিতে সাইকোমেট্রিক পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োগ করা উচিত। এতে প্রার্থীর শুধু পুঁথিগত যোগ্যতা নয়, তাঁর প্রকৃত দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, মানসিক উপযোগিতা এবং কর্মপরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা সম্ভব

নেতৃত্ববিশেষজ্ঞদের মতে, এখন শুধু কাজের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না; কর্মীদের শেখার সুযোগ, মানসিক স্বস্তি এবং মতামত দেওয়ার পরিবেশও তৈরি করতে হবে। কারণ, একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু প্রযুক্তি নয়, দক্ষ মানুষও।

তবে দায়িত্ব শুধু প্রতিষ্ঠানেরই নয়। কর্মীদেরও নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। একটি দেশীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সেকশন ম্যানেজার রাইয়ান রহমান (ছদ্মনাম) বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সহমর্মী হয়, তাহলে আমাদেরও উচিত নিজের দায়িত্বটুকু কোনো অজুহাত ছাড়াই ভালোভাবে শেষ করা।’

বেতন স্থবির, কাজের শেষ নেই: শোষণে পিষ্ট বেসরকারি চাকরিজীবী

এআইয়ের যুগে দক্ষতার নতুন পরীক্ষা

কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। অনেক চাকরিপ্রার্থী এখন জীবনবৃত্তান্ত তৈরি থেকে শুরু করে ইন্টারভিউ প্রস্তুতিতেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন। তবে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া আর প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা এক বিষয় নয়।

অনেক সময় সিভি এত নিখুঁতভাবে সাজানো হয় যে মনে হয়, প্রার্থী নয়—সিভিটিই যেন চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে এসেছে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত আসল পরীক্ষা হয় কাজের দক্ষতায়।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৫০ শতাংশ চাকরিপ্রার্থী কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছেন। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বুঝতে পারছে, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মানুষের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই অনেক ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করে।

তীব্র জনবলসংকটে দেশের স্বাস্থ্যসেবা, শূন্য পদ পূরণে যে যে বিশেষ উদ্যোগ

বদলাতে হবে নিয়োগের ধারণাও

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় নিয়োগপদ্ধতিতেও পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক বলেন, ‘নিয়োগপদ্ধতিতে সাইকোমেট্রিক পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োগ করা উচিত। এতে প্রার্থীর শুধু পুঁথিগত যোগ্যতা নয়, তাঁর প্রকৃত দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, মানসিক উপযোগিতা এবং কর্মপরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা সম্ভব।’

কর্মীদের দীর্ঘদিন ধরে রাখতে এখন শুধু বেতন বা চাকরির সুবিধাই যথেষ্ট নয়। দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

দিন শেষে নতুন চাকরি–সংস্কৃতির মূল কথা একটাই—প্রতিষ্ঠানকে যেমন কর্মীর আস্থা অর্জন করতে হবে, তেমনি কর্মীকেও নিজের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দিতে হবে। এই পারস্পরিক সম্পর্কই কঠিন সময়ে প্রতিষ্ঠান ও কর্মী—দুই পক্ষের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

প্রাথমিকে বদলি কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বাদ, যুক্ত হলো সাত শর্ত

Read full story at source