বিশ্বকাপের ট্রফি এবারও হাজির হবে লুই ভিতোঁর রাজকীয় ট্রাঙ্কে
· Prothom Alo

বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই আবেগ, উত্তেজনা আর ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা। তবে মাঠে শিরোপার লড়াই শুরু হওয়ার আগেই এমন একটি মুহূর্ত থাকে, যেটির দিকে তাকিয়ে থাকেন কোটি কোটি দর্শক। সেটি হলো বিশ্বকাপ ট্রফির মাঠে প্রবেশ।
Visit h-doctor.club for more information.
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও সেই ঐতিহ্য অটুট থাকছে। বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘লুই ভিতোঁ’ এবারও বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ট্রফি বহনের জন্য তৈরি করেছে বিশেষ ট্রফি ট্রাঙ্ক। ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘অফিশিয়াল সাপ্লায়ার’ এবং ‘ব্র্যান্ডেড লাইসেন্সি’ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে এই ফরাসি ফ্যাশন ব্র্যান্ড।
১৯ জুলাই ফাইনালের আগে বিশেষ আয়োজনে একজন লুই ভিতোঁ অ্যাম্বাসেডর এবং একজন ফিফা কিংবদন্তির হাতে করে মাঠে আনা হবে এই ট্রফি। ২০১০ সাল থেকে বিশ্বকাপে যে রাজকীয় ট্রফি উপস্থাপনার রীতি শুরু হয়েছিল, সেটিই এবারও অনুসরণ করা হবে।
ঐতিহ্য আর কারুশিল্পের অনন্য মেলবন্ধন
প্যারিসের কাছে আসনিয়ের-সুর-সেন শহরে অবস্থিত লুই ভিতোঁর ঐতিহাসিক ওয়ার্কশপে দক্ষ কারুশিল্পীদের হাতে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ ট্রাঙ্ক।
পুরো ট্রাঙ্কজুড়ে রয়েছে লুই ভিতোঁর পরিচিত মনোগ্রাম। সামনে হাতে আঁকা সোনালি রঙের একটি ‘ভি’ অক্ষর, যা একদিকে যেমন ‘ভিক্টরি (বিজয়)’, অন্যদিকে ‘ভিতোঁ’-এর প্রতীক। ট্রাঙ্কের চারপাশে রয়েছে চামড়ার সূক্ষ্ম কাজ, মেলাটের সুরক্ষা বলয়, বিশেষ তালা এবং ক্লাসিক ক্ল্যাপস। লুই ভিতোঁ এই নকশা ব্যবহার করে আসছে ১৮৬০-এর দশক থেকেই।
ভেতরে ব্যবহার করা হয়েছে হালকা বেইজ রঙের চামড়া। ঢাকনার ভেতরে রয়েছে ফিফা ও লুই ভিতোঁর লোগো, যা এই অংশীদারিত্বের বিশেষ স্মারক।
শুধু ট্রফি নয়, বিজয়ের প্রতীক
ফিফার প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা রোমি গাইয়ের ভাষায়, বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ফুটবল ট্রফির জন্য লুই ভিতোঁর মতো ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডই সবচেয়ে উপযুক্ত সঙ্গী। তাঁর মতে, ফাইনালের আগে ট্রফি মাঠে প্রবেশের এই মুহূর্তটি এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আইকনিক দৃশ্য।
অন্যদিকে লুই ভিতোঁর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়েত্রো বেক্কারি বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল ও লুই ভিতোঁ বিশ্বকাপ ফুটবলের এই বিজয়কে উদযাপন করে আসছে। নতুন ট্রফি ট্রাঙ্কও সেই উত্তরাধিকারই বহন করবে।
পাঁচ বিশ্বকাপের সঙ্গী
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেবিশ্বকাপের ট্রফি বহনের ট্রাঙ্ক তৈরি করা লুই ভিতোঁর জন্য নতুন কিছু নয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হয় এই যাত্রা। এরপর ২০১৪ সালে ব্রাজিল, ২০১৮ সালে রাশিয়া, ২০২২ সালে কাতার এবং এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ। টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফির জন্য বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করল এই ফ্যাশন ব্র্যান্ড।
ফ্যাশন যখন ফুটবলের অংশ
বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলোর একটি। সেই মঞ্চে লুই ভিতোঁর মতো বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডের উপস্থিতি দেখিয়ে দেয়, এখন ফ্যাশন, শিল্প আর খেলাধুলা একে অপরের পরিপূরক।
ফাইনালের রাতে যখন বিশ্বের সেরা দলটি সোনালি ট্রফি হাতে তুলবে, তার আগেই কোটি দর্শকের চোখ আটকে থাকবে আরেকটি শিল্পকর্মে। লুই ভিতোঁর সেই রাজকীয় ট্রফি ট্রাঙ্কে, যেখানে নিরাপদে অপেক্ষা করবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন।
ছবি: ফিফা ও ইনস্টাগ্রাম