হারবাল চায়ে কী উপকার, এর কি কোনো ঝুঁকি আছে?

· Prothom Alo

একসময় চা মানেই ছিল দুধ-চিনি মেশানো পরিচিত পানীয়। কিন্তু গত এক দশকে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হারবাল চা বা ভেষজ চা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্যাফে—সব জায়গায় এখন বিভিন্ন ধরনের হারবাল চায়ের উপস্থিতি চোখে পড়ে। কেউ পান করেন ওজন নিয়ন্ত্রণের আশায়, কেউ ভালো ঘুমের জন্য, আবার কেউ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর প্রত্যাশায়। কিন্তু হারবাল চা আদতে কতটা উপকারী? আর এর কোনো ঝুঁকি কি নেই?
হারবাল চা মূলত বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ, ফুল, পাতা, ফল বা মসলার নির্যাস দিয়ে তৈরি পানীয়। প্রচলিত চায়ের মতো এতে সব সময় চা-পাতা থাকে না। ফলে অনেক হারবাল চায়েই ক্যাফেইন থাকে না বা খুবই কম থাকে।

Visit grenadier.co.za for more information.

৮০০ ঘণ্টায় বানানো জেনডায়ার এই পোশাক, দেখুন ১০টি ছবি

সবচেয়ে পরিচিত হারবাল চায়ের মধ্যে আছে আদা–চা, পুদিনা–চা, ক্যামোমাইল চা, লেমনগ্রাস–চা, হিবিস্কাস চা, তুলসী–চা ও দারুচিনি–চা। আদা–চা হজমে সহায়তা করতে পারে, বমিভাব কমাতে সাহায্য করে এবং ঠান্ডাজনিত অস্বস্তিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। পুদিনা–চা পেটফাঁপা ও বদহজমের সমস্যা কমাতে উপকারী বলে পরিচিত। ক্যামোমাইল চা শরীর ও মনকে শিথিল করতে সাহায্য করে, তাই অনেকেই ঘুমের আগে এটি পান করেন। হিবিস্কাস চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। তুলসী ও লেমনগ্রাস–চা সতেজতা এনে দিতে ও সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে হারবাল চা নিয়ে একটি ভুল ধারণা হলো—যেহেতু এটি প্রাকৃতিক, তাই এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। ভেষজ উপাদানেও সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই কোনো কোনো ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।
যেমন—কারও কারও ক্যামোমাইল বা নির্দিষ্ট ফুলজাতীয় ভেষজে অ্যালার্জি হতে পারে। অতিরিক্ত আদা–চা অনেকের ক্ষেত্রে অম্বল বা পাকস্থলীর অস্বস্তি বাড়াতে পারে। আবার হিবিস্কাস চা রক্তচাপ কমানোর ওষুধের সঙ্গে একত্রে গ্রহণ করলে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যাঁরা ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যায় ভুগছেন কিংবা নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত হারবাল চা পান করা সমীচীন নয়।
অনেকের প্রশ্ন, হারবাল চা কি প্রতিদিন খাওয়া যায়? সাধারণভাবে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য দিনে এক থেকে দুই কাপ হারবাল চা নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবে এটি পানির বিকল্প নয়। সারা দিনের তরল চাহিদা পূরণে বিশুদ্ধ পানির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। হারবাল চা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু একে অলৌকিক স্বাস্থ্যপানীয় ভাবার সুযোগ নেই।
একই দিনে একাধিক ধরনের হারবাল চা পান করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। সকালে আদা–চা, দুপুরে লেমনগ্রাস–চা এবং রাতে ক্যামোমাইল চা—এ ধরনের পরিমিত বৈচিত্র্য সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে অনেক ধরনের ভেষজ একসঙ্গে বা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ‘ডিটক্স’ বা ‘স্লিমিং’ চায়ের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে নিয়মিত পান করা উচিত নয়।
সব শেষে বলা যায়, হারবাল চা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি আনন্দদায়ক ও উপকারী সংযোজন হতে পারে। তবে এর উপকারিতা যেমন বাস্তব, তেমনি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সচেতনতা, পরিমিতি এবং নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা রেখেই হারবাল চা পান করা উচিত। স্বাস্থ্যরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো একক পানীয় নয়; বরং সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ভালো ঘুমই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক: ডা. সাইফ হোসেন খান, সহকারী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি

Read full story at source