আর্জেন্টিনা সহজেই জিতবে, ইংল্যান্ডের বাধা হলান্ড

· Prothom Alo

সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা সহজেই সুইজারল্যান্ডকে টপকে যাবে আমার বিশ্বাস। আর ইংল্যান্ডের সামনে বড় বাধা অবশ্যই আর্লিং হলান্ড।

Visit milkshake.it.com for more information.

আর্জেন্টিনাকে অনেকটা এগিয়ে রাখার পেছনে আমার বড় যুক্তি তিনটি। প্রথমত, নকআউটের দুটি ম্যাচ আর্জেন্টিনাকে বড় শিক্ষা দিয়েছে। কেপ ভার্দের তীব্র প্রতিরোধের পর মিসরের কাছে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে পিছিয়ে হারের শঙ্কায় পড়েও জয়ের অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার জন্য বড় অর্জনই, তা মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে তাদের।

‘কখনো হাল না ছাড়া’ এক দল হিসেবে মানুষ মনে রাখুক আর্জেন্টিনাকে: স্কালোনি

দ্বিতীয়ত, সুইজারল্যান্ড ম্যাচটিকে টাইব্রেকার পর্যন্ত টেনে নিতে ‘লো ব্লকে’ খেলতে চাইবে। কিন্তু প্রতিপক্ষের লো ব্লক ভাঙতে কার্যকর ট্যাকটিকস ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আছে আর্জেন্টিনার। ‘লো ব্লক’ ভাঙার দক্ষতায় আর্জেন্টিনা বেশ ভালো। তৃতীয়ত, আমরা আগে ভাবতাম, আর্জেন্টিনা শুধু মেসি-নির্ভর দল। কিন্তু যখন দেখবেন দলের ডিফেন্ডাররাও গোল করছে, তখন সে ধারণাটি পাল্টায়।

আর্জেন্টিনার অনুশীলনে লিওনেল মেসি।

এই মানের টুর্নামেন্টে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগের ব্যর্থতা চোখে লেগেছে। ফিনিশিং দুর্বলতা আছে দলটির। মাঝমাঠে গ্রানিত জাকা প্রতি–আক্রমণ শুরু করলেও ওপরে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় না থাকায় তা কার্যকর হয় না। অন্যদিকে সুইসদের রক্ষণ মূলত মানুয়েল আকাঞ্জি-নির্ভর আর সেই রক্ষণে প্রায়ই ভারসাম্যের অভাব দেখছি।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা রাখতে হবে সুইজারল্যান্ডের। বল দখলের লড়াইয়ে জেতার পর দ্রুত প্রতি–আক্রমণে যেতে হবে। তবে সত্যি বলতে, সুইসদের অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনা মাত্র ২৫ ভাগ দেখছি। আর্জেন্টিনা ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলে এবং উইং ব্যবহার করে সুইসদের রক্ষণ ব্লকের চারপাশ দিয়ে আক্রমণ করতে পারে।

সাইবার হামলার শিকার আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

কেপ ভার্দে ও মিসর আর্জেন্টিনাকে বিপদে ফেলেছিল ‘সারপ্রাইজিং স্ট্র্যাটেজি’ দিয়ে। কেপ ভার্দে লো ব্লকের বদলে হাই প্রেস করেছিল, আর মিসর সালাহর ওপর নির্ভর না করে উইং দিয়ে প্রতি–আক্রমণে যায়। এসবই আর্জেন্টিনার জন্য বড় শিক্ষা।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা একাডেমিভিত্তিক হওয়ায় যেকোনো ফরমেশন বা প্লেইং স্টাইলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। ইংল্যান্ডের মূল কাজ হবে নরওয়ের মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের খেলার পথ বন্ধ করা। ডেকলান রাইস বা জর্ডান হেন্ডারসনরা সেটা সম্ভবত করতে প্রস্তুত।

নরওয়ের আর্লিং হলান্ড আজ ইংল্যান্ডের আসল মাথাব্যথার নাম।

তবে ইংল্যান্ডের আসল মাথাব্যথার নাম আর্লিং হলান্ড। ব্রাজিল তাঁকে থামাতে পারেনি, কিন্তু টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড অনেক বেশি পদ্ধতিগত দল। হলান্ডকে থামাতে ইংল্যান্ডের প্রথম দাওয়াই হওয়া উচিত, হলান্ডের কাছে বল সরবরাহের পথ বন্ধ করা। নইলে দুজন ডিফেন্ডার দিয়ে ঘিরে রেখে তাঁকে ‘স্যান্ডউইচ পজিশনে’ রাখতে হবে। ক্রস বা লম্বা বলে হেডের সুযোগ দেওয়া যাবে না হলান্ডকে। হলান্ড মাঠে দীর্ঘক্ষণ লুকিয়ে থেকেও হুট করে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। তাই তাঁর ওপর পুরো সময় মনোযোগ রাখা জরুরি।

ইংল্যান্ডের বড় তাস জুড বেলিংহাম। এই বিশ্বকাপে ‘বিটুইন দ্য লাইন’ (রক্ষণ ও মাঝমাঠের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা) থেকে সবচেয়ে বেশি বল সংগ্রহ করেছেন এই মিডফিল্ডার। গোলের সুযোগ তৈরি করছেন, গোল করছেনও। হ্যারি কেইনের পাশাপাশি বেলিংহামও হতে পারেন নরওয়ের বড় হুমকি।

লেখক: ফুটবল কোচ ও বিশ্লেষক

Read full story at source