বিশ্বকাপে কেউ কেউ মাস্ক পরে খেলছেন কেন

· Prothom Alo

ফুটবল এমন একটা খেলা, যেখানে আলাদা অনুষঙ্গ যোগ করার কোনো উপায় নেই। কিছু একটা যোগ করলেই শরীর হয়ে উঠবে ভারী, ফুটবল খেলাটা হয়ে উঠবে কঠিন। তাই তো ফুটবলারদের জার্সি, বুট আর শিন গার্ড ছাড়া আলাদা কিছু পরতে দেখাই যায় না। তবে এবারের বিশ্বকাপ ছিল ভিন্ন। এই বিশ্বকাপে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কেই দেখা গেছে মুখে মাস্ক পরে খেলতে। তবে সেটা ফ্যাশন নয়, বরং প্রয়োজনে।

Visit raccoongame.org for more information.

বিশ্বকাপে মাস্ক পরে প্রথম নামতে দেখা যায় আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানকে। জিনেদিন জিদানের ছেলে মাঠে নেমেছিলেন পুরো মুখে মাস্ক পরে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রায় আড়াই মাস পর মাঠে নেমেছিলেন তিনি। নতুন করে ফিরে আসাটা ভালো হয়নি তাঁর। লিওনেল মেসির কাছে হজম করেছেন তিন গোল, পারফরম্যান্সও ছিল হযবরল। কিন্তু এই মাস্ক পরার কারণ ছিল চোট।

নরওয়ে গোল করলেই কেঁপে ওঠে একটি আস্ত শহর

এই বছরের এপ্রিলে আলমেরিয়ার বিপক্ষে খেলতে গিয়ে মুখে বেশ বড় আঘাত পান তিনি। থুতনি ও চোয়ালের হাড় সরে যায়, সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হয় অপারেশন টেবিলে। ধারণা করা হয়েছিল বিশ্বকাপে হয়তো সুযোগ পাবেন না তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিট হওয়ায় তাঁকে নিয়েই দল সাজায় আলজেরিয়া। কিন্তু পুরো মুখে পরে থাকতে হয়েছে মাস্ক।

একই কারণে মুখে মাস্ক পরে নেমেছিলেন ইংলিশ ফুলব্যাক জেড স্পেনস। তিনি নেমেছিলেন প্রটেকটিভ মাস্ক পরে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহাম ডিফেন্ডার মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হন চেলসি স্ট্রাইকার লিয়াম ডিলাপের সঙ্গে। সেখানেই তাঁর চোয়ালের হাড় সরে যায়। কিন্তু সার্জারি করলেই মিস যেত বিশ্বকাপ, ফলে সার্জারি না করেই উঠে পড়েন বিশ্বকাপের প্লেনে। তিনি যাতে ম্যাচ খেলতে পারেন, তাই বানানো হয় বিশেষ ধরনের এক মাস্ক। যাতে চোয়ালের হাড় নড়ে না যায়।

বিশ্বকাপে বিশ্ব কাঁপে

একই ধরনের মাস্ক পরতে দেখা যায় অস্ট্রিয়ান খেলোয়াড় স্টেফান পশকেও। জর্ডানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই থুতনিতে আঘাত পান তিনি। ধারণা করা হচ্ছিল, প্রথম ম্যাচ শেষেই বিশ্বকাপ শেষ তাঁর। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই ‘সুস্থ’ হয়ে ওঠেন তিনি। সার্জারি না করেই ম্যাচ খেলতে নামেন তিনি, জেড স্পেনসের মতো মাস্ক পরে।

অন্যদিকে উরুগুয়ের ডিফেন্ডার সেবাস্তিয়ান কাসেরেস নেমেছিলেন ফুল মাস্ক পরে। মেক্সিকান লিগে মুখে সরাসরি আঘাত পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। কনকাশনের সঙ্গে মুখের একটি হাড়ে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। সেই চোটকে সঙ্গে নিয়েই এসেছেন বিশ্বকাপে। অনুশীলন ও খেলার পুরোটা সময়ে তাঁকে পরে থাকতে হয় মাস্ক।

বিশ্বকাপের জার্সি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাঁস

Read full story at source