ডুপ্লেক্স ও আধুনিক বাড়ির অন্দরসজ্জা

· Prothom Alo

বাড়ির অন্দরসজ্জা শুনলেই মনে আসে এখন নান্দনিকতা, প্রযুক্তি ও আভিজাত্যের মেলবন্ধন। বাড়ি কেবল ইট-পাথরের একটি আশ্রয়স্থল নয়; এটি একজন মানুষের রুচি, ব্যক্তিত্ব এবং জীবনধারার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বর্তমান সময়ে ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির অন্দরসজ্জা বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। বিশেষ করে ডুপ্লেক্স এবং আধুনিক ফ্ল্যাটগুলোর ক্ষেত্রে শুধু সৌন্দর্যই নয়, বরং কার্যকারিতা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

আধুনিক অন্দরসজ্জার এই নতুন ধারায় স্মার্ট হোম ফিচার, স্পেস সেভিং ফার্নিচার এবং ডুপ্লেক্স বাড়ির নান্দনিক সিঁড়ি ও লাইটিংয়ের ব্যবহার এখন সবচেয়ে আলোচিত ট্রেন্ড।

Visit freshyourfeel.com for more information.

বর্তমান যুগের আধুনিক বাড়িগুলো ক্রমেই ‘স্মার্ট হোমে’ রূপান্তরিত হচ্ছে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্দরসজ্জাকে করা হচ্ছে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ।

ভয়েস এবং অ্যাপ কন্ট্রোল: স্মার্টফোন বা ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে ঘরের আলো, ফ্যান, এসি এবং পর্দার নিয়ন্ত্রণ এখন হাতের মুঠোয়। ‘অ্যামাজন অ্যালেক্সা’ বা ‘গুগল হোম’-এর মতো ডিভাইসের মাধ্যমে পুরো বাড়িকে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে।

স্মার্ট সিকিউরিটি সিস্টেম: বায়োমেট্রিক ডোর লক, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মোশন সেন্সর লাইট বাড়ির নিরাপত্তাকে নিয়ে গেছে অন্য মাত্রায়। বাড়ির বাইরে থাকলেও অ্যাপের মাধ্যমে ঘরের সার্বক্ষণিক নজরদারি এখন খুব সাধারণ একটি বিষয়।

ক্লাইমেট ও এনার্জি কন্ট্রোল: ঘরে মানুষের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এসি বা লাইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু বা বন্ধ হওয়ার সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বিদ্যুতের অপচয় রোধ করে।

ছিমছাম ও বহুমাত্রিক ব্যবহার

বাড়ির জায়গা ছোট হোক বা ডুপ্লেক্সের মতো বিশাল—সবখানেই এখন মিনিমালিস্ট বা ছিমছাম অন্দরসজ্জার জয়জয়কার। ঘরকে ভারী ফার্নিচারে আবদ্ধ না করে স্পেস সেভিং এবং মাল্টিফাংশনাল আসবাবের ব্যবহার এখনকার প্রধান ট্রেন্ড।

বহুমুখী আসবাব: এমন সোফা যা প্রয়োজনে বিছানা হয়ে যায়, অথবা দেয়ালে ভাঁজ করে রাখা যায় এমন ডাইনিং টেবিল এখন দারুণ জনপ্রিয়।

লুক্কায়িত স্টোরেজ: খাটের নিচে ড্রয়ার, সিঁড়ির নিচের ফাঁকা জায়গায় ক্যাবিনেট বা বসার ব্যবস্থা এবং দেয়ালজুড়ে ফ্লোর-টু-সিলিং ওয়ার্ডরোব ব্যবহার করে ঘরের জায়গা বাঁচানো হচ্ছে।

মিনিমালিজম: অপ্রয়োজনীয় আসবাব এড়িয়ে জ্যামিতিক নকশার ছিমছাম ফার্নিচার ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডুপ্লেক্সের সিঁড়ি: আভিজাত্যের কেন্দ্রবিন্দু

একটি ডুপ্লেক্স বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং মূল ফোকাল পয়েন্ট হলো এর সিঁড়ি। এটি শুধু দুটি ফ্লোরের সংযোগস্থল নয়, বরং পুরো বাড়ির আভিজাত্য তুলে ধরে।

ফ্লোটিং বা ভাসমান সিঁড়ি: আধুনিক ডুপ্লেক্সে কংক্রিটের ভারী সিঁড়ির বদলে কাঠ বা মেটালের ফ্লোটিং সিঁড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দেখতে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এবং ঘরকে আরও প্রশস্ত মনে হতে সাহায্য করে।

গ্লাস রেলিং: সিঁড়ির রেলিংয়ে কাঠের পাশাপাশি টেম্পারড গ্লাসের ব্যবহার এখন তুঙ্গে। এটি বাড়ির ইন্টেরিয়রে একটি আধুনিক এবং প্রিমিয়াম লুক এনে দেয়।

সিঁড়ির নিচের জায়গার সদ্ব্যবহার: সিঁড়ির নিচের জায়গাটি ফেলে না রেখে সেখানে ইনডোর প্ল্যান্টস, ছোট একটি রিডিং কর্নার অথবা নজরকাড়া শোপিস রাখার তাক তৈরি করা হচ্ছে।

Read full story at source