শোকাল্পনা

· Prothom Alo

২০২০ সালে পত্রসাহিত্য লিখেছিলাম বাবাকে! কল্পনায় বাবার কবরের মাথার কাছে বকুলগাছ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সারি এঁকেছিলাম। ১৯ জুন ছিল বাবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী! কল্পনা কীভাবে যেন সত্য হয়ে গেল! বকুল নয়; বেলি। সাদা ধবধবে বেলি ফুলের গাছ, শখে কিনেছিলাম যেটি, সেটি বাবার কবরের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। আমিও বুকের ভেতর বাবার জ্বলজ্বলে নীরব মুখ পুষে চলে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি, আটকে আছি, পড়ে আছি; সেইখানে, যেইখানে বাবার আঙুল আমার জন্য সুরক্ষিত ঢাল হয়ে আগলে রেখেছিল ছোটবেলায়!

প্রতিনিয়ত পুড়ছি বাবার জন্য! বাবা আমাকে ‘মা’ বলে ডাকত! এখন আমার রন্ধ্র অনুধাবন করায়, মা ডাকের সম্পূর্ণ প্রতিদান হয়তো দিতে পারিনি! মানুষ এভাবে বাবাহীন হয়? হতে পারে? বাবা ছাড়া দুনিয়ায় এত শোক, এত রোগ, এত ক্লান্তি এবং স্থবিরতা আসবে, ভাবতেই পারিনি! দুনিয়াতে আরও মানুষের বাবাহীন জীবন দেখেছি! কিন্তু তাদের জীবন মন, মগজ এতটা বিধ্বস্ত হতে খুব বেশি দেখিনি! বিধ্বস্ত হলেও তাদের সেরে উঠতে দেখেছি দ্রুত!

Visit somethingsdifferent.biz for more information.

বাবা বলতেন, আমি থাকতেই জীবনটা গুছিয়ে নে

আমার এখনো অপেক্ষা থাকে সেই ছোট্টবেলার মতো...বাবার ফিরে আসার! আমি সব বুঝতে পারি, সব জানি... আমার চোখের সামনে আমার উচ্চারিত কালেমা কানে নিয়ে বুকের ঠিক ডানপাশ দিয়ে বাবার রুহ্টা বের হয়ে গেলে...আমি তা–ও দেখেছি। মৃত্যু–পরবর্তী সময়ে বাবার সেই নিথর আঙুল আমার হাতের মধ্যে ছিল শিশুকালের মতো! যা এখনো আছে। কোত্থাও হারায়নি! তবু...

আমি খুঁজি বাড়ির আঙিনায়, উঠানে, বাবার ঘরে, বন্ধ দুয়ারে—যে পথে বাবা হাঁটত, সেই পথে... বাবা আসবে ভেবে! প্রতিনিয়ত নিজেই নিজেকে বলি.. বাবা কই গেল? সেই যে গেল, আর এলই না! মানুষের মৃত্যু হয় না ফেরার চুক্তিতেই! আর আমার মতো যারা শোকে মরে, তারা হয়তো বেঁচেও ফিরে আসে বারবার, বাবা হারাবার শোকে মরে যাবার জন্য!

শুক্রবার, বৃষ্টিদিন আর সাদা বেলি; জুনের ১৯ তারিখ ২০২৫, আমাকে থামিয়ে দিয়েছে একটি কবরের কাছে! যেটি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এবং আমার প্রিয় বাবার কবর!

Read full story at source