‘অভিনেত্রীদের দিকে অনেকেই এমনভাবে তাকান, যা স্বাভাবিক নয়’

· Prothom Alo

‘পেড্ডি’ ছবিতে জাহ্নবী কাপুরের ক্লোজআপ দৃশ্য নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সে সময়ে দক্ষিণি চলচ্চিত্রজগতে নারী অভিনেত্রীদের প্রতিদিনের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তামান্না ভাটিয়া। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ৩৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর দাবি, দক্ষিণি চলচ্চিত্রজগতে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন অভিনেত্রীরা। তাঁর কথায়, ‘ওখানে সবাই অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে থাকে।’ তামান্না বলেন, দক্ষিণি চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় তিনি অনুভব করেছেন, অভিনেত্রীদের দিকে অনেকেই এমনভাবে তাকান, যা স্বাভাবিক নয়। ‘মানুষ আপনার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। সেই দৃষ্টি অনেক সময়ই অস্বস্তিকর।’

তামান্নার মতে, এটি ব্যক্তিগতভাবে কারও দোষ নয়; বরং সমাজের দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা মানসিকতারই প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, এই মানসিকতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো। দক্ষিণ ভারতে নারী ও পুরুষের সামাজিক মেলামেশা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে অনেকের মধ্যেই নারীদের প্রতি একধরনের কৌতূহলী ও অস্বস্তিকর দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়।

Visit playerbros.org for more information.

তবে তামান্না স্পষ্ট করেছেন, দক্ষিণি চলচ্চিত্রজগতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে কেবলই নেতিবাচক নয়; বরং এই ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং স্বীকৃতি দিয়েছে। হিন্দি ছবি চাঁদ সা রোশন চেহেরা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও মুম্বাইয়ে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রীকে পরিচিতি দিয়েছে দক্ষিণি ছবি। আর তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞও, ‘দক্ষিণি ছবির জগতে আমি অসংখ্য ভালো মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি এবং অনেক সম্মানও পেয়েছি। কিন্তু একই সঙ্গে কিছু বাস্তব সমস্যাও রয়েছে, যেগুলো নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।’

‘স্ত্রী ২’ সিনেমার গানের দৃশ্যে তামান্না ভাটিয়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

তামান্না মনে করেন, ‘এখন অনেক নারী শিল্পী নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরতে সাহস পাচ্ছেন। আগে যেসব বিষয় চেপে যাওয়া হতো, এখন সেগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ পরিবর্তন অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ, সমস্যার কথা না বললে তার সমাধানও সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তনও হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের নির্মাতা, অভিনেতা ও কলাকুশলীরা নারী সহকর্মীদের প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল। কর্মক্ষেত্রে সম্মানজনক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে তাঁদের সচেতনতা আগের তুলনায় বেড়েছে। আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যতে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হবে।’

লুকোচুরি প্রেম আর নয়, কী ইঙ্গিত দিলেন জাহ্নবী

তামান্না আরও বলেন, তিনি কখনোই পুরো দক্ষিণি চলচ্চিত্রশিল্পকে একদৃষ্টিতে বিচার করতে চান না। তাঁর ভাষ্যে, ‘কোনো ইন্ডাস্ট্রিই পুরোপুরি নিখুঁত নয়। সব ক্ষেত্রেই ভালো ও খারাপ—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই থাকে। তবে নারী শিল্পীদের জন্য নিরাপদ এবং স্বস্তিকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সমাজের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি।’

তামান্না ভাটিয়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

প্রথম ছবি করার সময়ে তামান্নার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। পরের ২০ বছরে অনেক তামিল, তেলুগু ও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তামান্না দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, নারী শিল্পীদের প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা শুধু চলচ্চিত্রশিল্পের নয়, গোটা সমাজেরই দায়িত্ব। তাঁর বিশ্বাস, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও আরও স্বাস্থ্যকর ও সমতাভিত্তিক হয়ে উঠবে।

Read full story at source