যেসব শিক্ষক গ্রামের স্কুল থেকে শহরে এসেছেন, তাঁদের তালিকা করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

· Prothom Alo

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দীর্ঘ সময় থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা। এখন গ্রামের শিক্ষকদের সবাই শহরে আসতে চান। এভাবে সব ঢাকা শহরে, সিলেট শহরে, রাজশাহী, খুলনা শহরে চলে আসেন। বিগত ২০ বছর ধরে যেসব শিক্ষক ফাঁকি দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে গ্রামের স্কুল থেকে শহরে এসে বসবাস করছেন, তাঁদের সবাইকে আবার গ্রামের স্কুলে ফিরে যেতে হবে।’

খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

Visit syntagm.co.za for more information.

শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষায় অনেক দুর্বলতা রয়েছে। আমাদের শিক্ষক নেই। দেশে ৬৫ হাজার ৫০০ সরকারি বিদ্যালয়। ৬০ হাজার শিক্ষক শর্ট নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলছে। আবার বড় শহরগুলোতে সব অ্যাটাচ হয়ে চলে আসছে। গত ২০ বছর যেসব শিক্ষক গ্রামের স্কুল থেকে শহরে এসেছেন, তাঁদের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা করে তাঁদের সবাইকে নিজ নিজ স্থানে ফেরত পাঠাবেন। এরপর যদি কোনো ট্রান্সফারের প্রয়োজন হয় আমরা কমিটি করে দিয়েছি, সেই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। সেই কমিটির সিদ্ধান্তে যদি কেউ অসন্তুষ্ট হন, তাহলে আমরা রয়েছি। হঠাৎ করে আমাদের কাছে আসার দরকার নেই।’

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়, যা বিগত বছরগুলোতে হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘২০০৬ সালে আমরা নকল শেষ করে এসেছি। সবাই মিলে নকলের দাফন, কাফন ও চল্লিশা খেয়ে চলে গেলাম। কিন্তু এখন আবার নকলের নতুন ভেরিয়েন্ট তৈরি হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিজিটাল নকল হতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের বডি চেক করে ঢোকানোর পরে ও আগে থেকে কেউ যদি পরীক্ষার হলে বইপত্র রেখে আসে তার দায় শিক্ষকদের। ডিজিটাল নকলের জন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর থেকে ৯টি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএইচসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও একক প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে আর আমরা বসে বসে চকলেট খাব, তা হবে না। যারাই প্রশ্নপত্র ফাঁসসংক্রান্ত কোনো পোস্ট ফেসবুকে দেবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎক্ষণাৎ তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন, প্রমাণ চাইবেন তাদের কাছে।’ আগে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হতো খাতায় নম্বর বেশি দিয়ে পাস করিয়ে দিতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে আমরা র‍্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে চেক করব, কীভাবে মার্কিং করা হচ্ছে, কীভাবে খাতা দেখা হচ্ছে। আমরা ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই সংশোধনী পাস হলে বোর্ড চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে খাতা চেক করা যাবে।’

আগামী বছর মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষাও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে: শিক্ষামন্ত্রী

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আবদুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল হক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

Read full story at source