‘ল ডক্টর’ পেজের আড়ালে প্রতারণা করার অভিযোগে মামলা, শফিক নজরুল রিমান্ডে

· Prothom Alo

ফেসবুকে ‘ল ডক্টর’ নামে পেজ খুলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় নিশ্চিত পাসের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার মো. শফিক নজরুলকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ।

Visit esporist.org for more information.

এর আগে নজরুলকে আদালতে হাজির করে শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে আসামি দীর্ঘদিন ধরে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। রিমান্ডে নিলে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে আসামিকে নির্দোষ দাবি করে রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান। আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী বলেন, তিনি শুধু পরীক্ষার আগে সাজেশন দিয়েছেন। কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন বা প্রতারণার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে বলেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য এই আসামি সব সময় চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তাঁর এই চটকদারি বিজ্ঞাপনের আড়ালে নানা রকম অনিয়ম ও প্রশ্নবাণিজ্য রয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নিলে আরও তথ্য জানা যাবে।

এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি শফিক নজরুল বলেন, ‘আমি জড়িত না। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। কোথায় কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি প্রশ্ন বাবদ, এটার প্রমাণ কোথায়? কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। আমি সাজেশন দিয়েছি পরীক্ষার আগে, ১০০টা প্রশ্নে ১০০টাই কমন পড়েছে। আমি একজন এক্সপার্ট (বিশেষজ্ঞ)। আমি কি সাজেশন দিতে পারব না? এটা মিথ্যা মামলা। আমাকে অর্থ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে কাল (সোমবার)। এরপর বেঁধে রেখেছে। পুলিশের কি এই ক্ষমতা আছে?’

মামলার নথি অনুযায়ী, শফিক নজরুল ‘ল ডক্টর’ পেজের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ‘১০০টি এমসিকিউ পড়লেই নিশ্চিত পাস’ এমন বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতেন এবং পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করতেন।

এক ভুক্তভোগীর অভিযোগে বলা হয়, আট লাখ টাকা দাবি করে ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ১২ জুনের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করার পর পুলিশ শফিক নজরুলকে গ্রেপ্তার করে।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেন, প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটনে রিমান্ড প্রয়োজন।

পুলিশ জানায়, একই কৌশলে আরও একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া এদিন শেরেবাংলা নগর থানার আরেক মামলায় শফিক নজরুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন একই আদালত। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আল এমরানের করা ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।

এ মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘অদম্য কোচিং সেন্টার’ পরিচালনার আড়ালে ‘ল ডক্টর’ পেজ ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হতো।

Read full story at source