হুমায়ূন আহমেদের ‘ময়ূরাক্ষী’ আমাদের কী বার্তা দেয়
· Prothom Alo

হুমায়ূন আহমেদের অমর সৃষ্টি হিমু চরিত্রের প্রথম উপস্থিতি ঘটে ‘ময়ূরাক্ষী’ উপন্যাসে। হিমু (পুরো নাম হিমালয়) এক অদ্ভুত, ছন্নছাড়া ও রহস্যময় তরুণ। পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবি পরে খালি পায়ে ঢাকার রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো এই চরিত্র চাকরি–বাকরি বা বৈষয়িক সাফল্যের ধার ধারে না। তার বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ‘মহাপুরুষ’ বানানো, মানবিক আবেগের ঊর্ধ্বে এক অসাধারণ মানুষ। হিমু সেই পথেই হাঁটে নিজের মতো করে, যেখানে বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখা ও সম্মিলন দুরূহ।
‘ময়ূরাক্ষী’ উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে রংপুর বন্ধুসভা। ২০ জুন বিকেলে কারমাইকেল কলেজ প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
Visit bettingx.club for more information.
পাঠচক্রে অংশগ্রহণকারীরা উপন্যাসের মূল আলোচনায় হিমুর জটিল চরিত্র, তার শৈশব, বাবার কঠোর প্রশিক্ষণ এবং ময়ূরাক্ষী নদীর সঙ্গে তার রূপকধর্মী সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উপন্যাসে হিমুর মাধ্যমে ফুটে ওঠা জীবনের সূক্ষ্ম দর্শন, প্রেম-আকাঙ্ক্ষা, মায়া-মমতা ত্যাগের দ্বন্দ্ব এবং হুমায়ূন আহমেদের স্বকীয় গদ্যশৈলী নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।
পাঠচক্র শেষে রংপুর বন্ধুসভার বন্ধুরাআলোচক মাইশা বিনতে সোবাহানি বলেন, ‘হিমুর চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক যেভাবে সাধারণ জীবনের অসাধারণত্ব তুলে ধরেছেন, তা পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।’
ভিন্নমত পোষণ করে জয়ব্রত কুমার বর্মণ বলেন, ‘ভবঘুরে জীবনযাপন, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া, সব ইহজাগতিক মায়ার ঊর্ধ্বে থাকা হিমু চরিত্রটা সমাজের বাস্তবধর্মী চরিত্রকে উপস্থাপন করে না।’
বন্ধু নুসরাত জামান বলেন, ‘উপন্যাসে দেখতে পাই হিমু তার দুঃসময়ে সব সময় একটা শান্ত, স্নিগ্ধ নদী কল্পনা করে। কাল্পনিক নদীটার নাম ময়ূরাক্ষী। নদীর কথা ভাবলেই হিমুর মন ভালো হয়ে যায়, খারাপ লাগা কাজ করে না। রূপক অর্থে ব্যবহার হওয়া নদীটি মূলত বোঝায়—আমাদের খারাপ সময়ে ভেঙে না পড়ে এমন কিছু নিয়ে ভাবা, যা আমাদের মানসিক শান্তি দেয়, সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।’
সবশেষে সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে ও সামনের দিনগুলোয় আরও বেশি বেশি পাঠচক্র আয়োজন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভাপতি সোহেলী আক্তার আলোচনার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সাধারণ সম্পাদক, রংপুর বন্ধুসভা