বুসানে ঝড় তুলল বিটিএস

· Prothom Alo

‘বাটার’ থেকে ‘ডায়নামাইট’—একের পর এক আলোচিত গানে বুসানে ঝড় তুলেছে কে–পপ গ্রুপ বিটিএস।

ব্যান্ডের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্র ও শনিবার বুসান এশিয়াড মেইন স্টেডিয়ামে গেয়েছেন আরএম, জিমিনরা। কনসার্টটি বিটিএসের ওয়ার্ল্ড ট্যুর ‘আরিরাং’–এর অংশ ছিল, তবে বিটিএসের বুসানে ফেরাটা বিশেষ ছিল।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

আয়োজকেরা জানিয়েছে, শনিবার প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে মোট দর্শকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার।
২০২২ সালের ‘ইয়েট টু কাম ইন বুসান’ কনসার্টের পর এই প্রথম বুসানে ফিরল বিটিএস। সেই কনসার্টই ছিল সাত সদস্যের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দেওয়ার আগে শেষ দলীয় পরিবেশনা।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কারিগরি সমস্যার কারণে প্রায় ২০ মিনিট দেরি হয়। অপেক্ষার সময় ভক্তরা সদস্যদের নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। শুক্রবারের কনসার্টও প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিলম্বিত হয়েছিল।

মুখোশধারী শিল্পীদের মশাল হাতে প্রবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ‘হুলিগান’, ‘এলিয়েন্স’ ও ‘রান বিটিএস’ গান পরিবেশন করে মঞ্চে ওঠেন সদস্যরা।

মঞ্চে গাইছেন বিটিএস ফিরেই কোন জাদুতে বাজিমাত করল বিটিএস

গান পরিবেশনের ফাঁকে আরএম বলতে থাকেন, ‘বুসান, আওয়াজ তোলো।’ নিজ শহরে কনসার্টে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বুসানে জন্ম নেওয়া জিমিন। তিনি বলেন, নিজের শহরে ভক্তদের সঙ্গে গান গাওয়া, নাচা ও সময় কাটাতে পেরে তিনি আনন্দিত। অন্যদিকে ভি স্মরণ করেন বুসানে বিটিএসের দীর্ঘদিনের নানা স্মৃতির কথা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গ তুলে আরএম বলেন, ‘১৩ জুন বছরে একবারই আসে। আশা করি আমাদের সঙ্গে ১৩তম বার্ষিকীটি উপভোগ করবেন।’

কনসার্টে বিটিএসের পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর গান ছাড়াও পরিবেশিত হয় বহু জনপ্রিয় গান। ‘দে ডোন্ট নো অ্যাবাউট আস’, ‘লাইক অ্যানিমেলস’, ‘ফেক লাভ’, ‘সুইম’, ‘মেরি গো রাউন্ড’ গান পরিবেশন করে বিটিএস।

মঞ্চসজ্জা ও পরিবেশনাতেও ছিল কোরিয়ার ঐতিহ্যের ছাপ। ‘দে ডোন্ট নো অ্যাবাউট আস’ গানে ব্যবহৃত হয় নতুনভাবে উপস্থাপিত ঐতিহ্যবাহী মুখোশ। ‘নরমাল’ গানে দেখা যায় কালি-তুলির চিত্রকলার অনুপ্রেরণায় তৈরি ভিজ্যুয়াল। ‘নট টুডে’ গানে ব্যবহার করা হয় কোরিয়ার জাতীয় প্রতীক তায়েগুকের লাল-নীল রং। আর ‘বডি টু বডি’ গানের কোরিওগ্রাফিতে ছিল ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য ‘গাংগাংসুল্লে’র ছোঁয়া।

রাতের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘নরমাল’ গানের কোরীয় সংস্করণের প্রথম মঞ্চায়ন। জে-হোপ জানান, বুসানের কনসার্টের জন্য বিশেষভাবে এই পরিবেশনা প্রস্তুত করা হয়েছিল।

মঞ্চে গাইছেন বিটিএস

‘মাইক ড্রপ’, ‘বাটার’, ‘ডাইনামাইট’ ও ‘আইডল’ গানের সময় ভক্তদের কণ্ঠে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। বিশেষ করে ‘বডি টু বডি’ গানের ‘আরিরাং’ অংশে হাজারো দর্শক একসঙ্গে গলা মেলালে তৈরি হয় সন্ধ্যার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি।
শেষ পর্বে আবেগঘন বক্তব্য দেন সদস্যরা। ১৩ বছরের পথচলার কথা স্মরণ করে আর্মিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁরা।

জিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, আপনাদের কারণেই আমরা এত দূর আসতে পেরেছি। আর্মির প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, সদস্যদের প্রতিও।’

জাংকুক ভক্তদের ধন্যবাদ জানান তাঁদের মূল্যবান সময় বিটিএসের সঙ্গে কাটানোর জন্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিটিএস ও আর্মি আরও বহু বছর একসঙ্গে থাকবে।
‘ওয়ান মোর নাইট’ ও ‘ইনটু দ্য সান’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় কনসার্ট।

কোরিয়া হেরাল্ড অবলম্বনে

Read full story at source