বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না: মির্জা ফখরুল
· Prothom Alo

বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপি ইজ এ পার্টি অব লিবারেল ডেমোক্রেসি। আমরা উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সেই উদার গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমরা এখানে অন্য কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে (পিআইবি) ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
Visit h-doctor.club for more information.
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় সংবাদপত্র প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে বুদ্ধিজীবীরা পত্রপত্রিকায় ‘হাইপ’ উঠিয়ে দিয়েছিলেন যে এখানে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় চলে আসছে, তারা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করবে, তবে মানুষ কিন্তু ভুল করেনি। মানুষ ঠিকই তাদের বাদ দিয়ে বিএনপিকে বেছে নিয়েছে। এর কারণ বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক দল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ যে কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাঁরা। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেছে নিয়েছিলেন ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, একজন সংগঠক হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। খুব কাছ থেকে তিনি যুদ্ধ দেখেছেন, ভয়াবহতা দেখেছেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কীভাবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, হত্যা করেছে, নারীদের নির্যাতন করেছে, তা দেখেছেন তিনি। সে কারণেই তাদের কখনোই ক্ষমা করতে পারেন না। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সঙ্গে আর অন্য কোনো কিছুকে মেলাতে পারেন না।
অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একজন দেশপ্রেমী মানুষ ছিলেন। আওয়ামী লীগ তাঁকে ‘অখ্যাত মেজর’ বলে বিদ্রুপ করত। অথচ একাত্তরে গোটা দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল যে যুদ্ধের জন্য তাদের নেতার কাছ থেকে ঘোষণা আসবে। সেটা যখন এল না, তখন এই অখ্যাত মেজরই হঠাৎ চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছিলেন, সেটা হলো এই ভূখণ্ডের মানুষগুলোকে একটা স্বকীয়তা দেওয়া, পরিচিতি দেওয়া। একটা আইডেন্টিটি দেওয়া যে ‘আমরা আলাদা।’
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, অত্যন্ত আশার কথা যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি, বক্তব্য ও কাজের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ মুশতাক খান। মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান।
আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ ও ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান। আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।