আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা

· Prothom Alo

রাজধানীর মগবাজারে আদ্–দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। হাসপাতালটির কিছু জায়গায় নোংরা পরিবেশ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা মিটার না থাকায় এ জরিমানা করা হয়েছে।

আজ রোববার বেলা তিনটার দিকে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম এ অভিযান চালান। প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযান শেষে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অভিযানকালে কিছু বিষয়ে তাঁদের কাছে ত্রুটি ধরা পড়েছে। সেগুলোকে আমলে নিয়ে নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী দুই লাখ টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছে।

Visit afnews.co.za for more information.

ত্রুটির প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে যেসব রেফ্রিজারেটর আছে, কোনোটিরই তাপমাত্রা মিটার ছিল না। তাঁরা এক জায়গায় লেবেল ছাড়া মিষ্টি পেয়েছেন। হাসপাতালের কিছু জায়গা নোংরা ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব ত্রুটি সংশোধন করে নেবে বলে জানিয়েছে। বেকারি পরিদর্শন করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁরা বেকারি বন্ধ পেয়েছেন।

অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. মাহমুদুর রহমান, ডিএসসিসির অঞ্চল-১–এর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারিয়া ফয়েজ ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আসলাম ভূঁইয়া। সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন।

পরে ডিএসসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিমানার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক ছিল না। ক্যানটিনের ফ্রিজে লেবেল ছাড়া মিষ্টি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ছিল। বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো–বাতাসের অভাব লক্ষ করা গেছে।

গত ২৭ মে সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারি পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক থেকে তিন দিন বয়সের ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনা তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ৩ জুন কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রাণ হারানো এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান ওই দিন রাতে রাজধানীর রমনা থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা হয়নি। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও পাঁচ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

গত শনিবার হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শন শেষে হাসপাতালটিতে একটি বেকারি আছে বলে জানান তিনি। সেখানে জমাট পানিও ছিল। ওই জমাট পানি এবং রুটির কারখানা থেকে কোনো ধরনের গ্যাস নির্গত হয়ে নবাজাতকদের ক্ষতি করেছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অভ্যন্তরীণ তদন্তও শেষ হয়নি

পাঁচ সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির কাজ এখনো চলছে। তদন্ত শেষ করে তা দ্রুতই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদ্‌–দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন। ঘটনার পরপরই বুধবার আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কী কারণে এতগুলো বাচ্চার মৃত্যু হলো, সেটি আমরাও গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত কমিটিও করেছি। কমিটি তদন্তের কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি। নবজাতকদের মায়েদের সঙ্গেও কথা বলবেন তাঁরা। তারপর দ্রুত কাজ শেষ করে প্রতিবেদন দেবেন।’

জরিমানার বিষয়ে নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা সব সময় হাসপাতালটি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখি। সেটি সবাই জানে। আর কিছু ওয়ার্ডে পুরোনো মডেলের রেফ্রিজারেটর আছে। যেটাতে তাপমাত্রা পরিমাপক বাইরে থেকে দেখা যায় না। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’

Read full story at source