গাড়িতে বা বাসে উঠলেই বমি হয়? মেনে চলুন এই নিয়মগুলো

· Prothom Alo

গাড়িতে উঠলেই মাথা ঘোরা, বমি ভাব, ঘাম হওয়া কিংবা অস্বস্তি—এ ধরনের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে মোশন সিকনেস বলা হয়। এটি মূলত আমাদের চোখ, কান ও মস্তিষ্কের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘটে। গাড়ি চলার সময় শরীর একধরনের সংকেত পায়, কিন্তু চোখ অন্য কিছু দেখে—এই বিভ্রান্তিই বমি ভাবের সৃষ্টি করে। তবে কিছু সচেতনতা ও অভ্যাস বদলালেই এই সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
প্রথমেই আসে খাবারের বিষয়। ভ্রমণের আগে একেবারে খালি পেটে থাকা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অতিরিক্ত ভরপেট খাওয়াও বিপজ্জনক। হালকা, কম তেল-মসলাযুক্ত ও সহজপাচ্য খাবার; যেমন বিস্কুট, কলা বা হালকা ভাত খাওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত, ঝাল বা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো বমি ভাব বাড়াতে পারে।

Visit biznow.biz for more information.

চারটি গরু নিয়ে ঢাকার হাটে এসেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতাস

দ্বিতীয়ত, বাসের ক্ষেত্রে বসার সঠিক জায়গা নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাসের সামনের দিকের সিটগুলোতে কম ঝাঁকুনি লাগে, তাই সেগুলো বেছে নেওয়া ভালো। জানালার পাশে বসলে বাইরের দৃশ্য দেখা যায়, যা মস্তিষ্ককে স্থিরতা অনুভব করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বাসের পেছনের দিকে বসলে বেশি ঝাঁকুনি অনুভূত হয়, ফলে অস্বস্তি বাড়ে।
তৃতীয়ত, যাত্রার সময় মুঠোফোন ব্যবহার বা বই পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে চোখ একটি স্থির বস্তুর দিকে মনোযোগ দেয়, কিন্তু শরীর চলমান থাকে। ফলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয় এবং বমি ভাব বাড়ে। এর পরিবর্তে দূরের কোনো স্থির বস্তু বা দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকা ভালো। এতে মস্তিষ্ক সহজে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
চতুর্থত, সতেজ বাতাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধ বা গরম পরিবেশে বমি ভাব দ্রুত বাড়ে। তাই জানালার পাশে বসার চেষ্টা করুন এবং সম্ভব হলে জানালা খুলে দিন। ঠান্ডা বাতাস শরীরকে আরাম দেয়। অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে ভেজা রুমাল দিয়ে মুখ মুছে নেওয়া যেতে পারে।
পঞ্চমত, কিছু প্রাকৃতিক উপায়ও কার্যকর হতে পারে। আদা দীর্ঘদিন ধরেই বমি ভাব কমাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভ্রমণের আগে অল্প পরিমাণ আদা খাওয়া বা আদা চা পান করা উপকারী হতে পারে। লেবুর গন্ধ বা লেবুর রসও অনেকের ক্ষেত্রে বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। কেউ কেউ পুদিনাপাতার গন্ধ থেকেও স্বস্তি পান।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ভ্রমণের আগে যদি শরীর ক্লান্ত থাকে, তাহলে মোশন সিকনেসের প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই যাত্রার আগের রাতে ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। মানসিক দুশ্চিন্তাও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ও শান্ত থাকার চেষ্টা করুন।
যাঁরা এই সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। বর্তমানে এমন কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, যা ভ্রমণের আগে গ্রহণ করলে বমি ভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সব মিলিয়ে একটু সচেতনতা ও কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গাড়িতে বা বাসে বমি হওয়ার সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। তাই পরবর্তী ভ্রমণে এই নিয়মগুলো মেনে চলুন, আর নিশ্চিন্তে উপভোগ করুন আপনার যাত্রা।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি

Read full story at source