বিয়েতে দাওয়াত দেননি, প্রতিবাদে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বন্ধুদের ‘বিক্ষোভ’

· Prothom Alo

‘টাকা লাগলে টাকা নিতি, তাও বন্ধুদের দাওয়াত দিতি’—প্রিয় বন্ধু বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ায় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এভাবে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান বন্ধুরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলে ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বন্ধুদের ভাষ্য, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের এসএসসি ২০১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নুরু মণ্ডলপাড়ার শাকিল শেখ গত বৃহস্পতিবার বিয়ে করেন। পাত্রী দেখা ও উভয় পরিবারকে বোঝানোর কাজটি বন্ধুরাই করেন। বন্ধুদের সঙ্গে আগে থেকে পরিকল্পনা করলেও তাঁদের না জানিয়ে বিয়ে করায় তাঁরা এমন প্রতিবাদের পথ বেছে নেন।

Visit casino-promo.biz for more information.

গতকাল বিকেলে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল মাঠে জড়ো হন শাকিল শেখের কয়েকজন বন্ধু। এ সময় তাঁরা ‘টাকা লাগলে টাকা নিতি, তাও বন্ধুদের দাওয়াত দিতি’ আয়োজনে এসএসসি ২০১৫ ব্যাচ গোয়ালন্দ লেখা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বিকেল চারটার দিকে বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন। পরে তাঁরা শাকিলের বাড়ির কাছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

শাকিলের বন্ধু মিশকাত সরদার বলেন, ‘শাকিল আমাদের খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে ওর খাওয়া নিয়ে আমরা বেশ মজা করি। কমবেশি সবাই ওকে খাওয়ায়, কিন্তু শাকিল কাউকে কোনো দিন কিছু খাওয়ায় না। সিদ্ধান্ত নিই, ওর বিয়েতে আমরা অনেক মজা করে খাব। বিয়ের জন্য পরিবারকে, এমনকি পাত্রী পক্ষকে বোঝানোর কাজটা আমরাই করি। তিন দিন আগে এক বন্ধু খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, শুক্রবার শাকিলের বিয়ে। কিন্তু আগের দিন বৃহস্পতিবার সে বিয়ে করে ফেলে। ১৪-১৫ জন বন্ধু একত্র হয়ে মিছিল ও খিচুড়ির আয়োজন করি। পরে শাকিল অনেক ফোন করলেও কেউ ধরিনি। মজা নিতে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে আয়োজনটি করেছি।’

আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা আয়নাল আহসান বলেন, ‘আমাদের দাওয়াত না দিলেও নবদম্পতির জন্য বন্ধুদের পক্ষ থেকে শুভকামনা ও দোয়া করেছি।’

এ বিষয়ে শাকিল শেখ বলেন, ‘ওরা আমার সবাই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওদের প্রতিবাদকে আমরা আনন্দ হিসেবে নিয়েছি। আমার মা অসুস্থ থাকায় বন্ধুদের দাওয়াত করতে পারিনি। তবে শিগগিরই বন্ধুদের একত্র করার ইচ্ছা আছে। বিষয়টি এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে, ভাবতে পারিনি। এখন কিছুটা হলেও কেমন যেন অস্বস্তি লাগছে।’

Read full story at source