ভুল করাটাই ইংরেজি শেখার প্রথম ধাপ
· Prothom Alo

বর্তমান প্রতিযোগিতার এই যুগে নিজেকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম বড় হাতিয়ার হলো ইংরেজি ভাষা। অথচ আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ভাষা নিয়ে ভয় ও জড়তা যেন এক চিরচেনা অভিশাপ। কেউ কেউ একে কেবল ব্যাকরণের বেড়াজালে বন্দী মনে করেন, আবার কেউ সঠিক পরিবেশের অভাবে নিজের মনের কথাগুলো ইংরেজিতে প্রকাশ করতে গিয়ে থমকে যান।
শিক্ষার্থীদের এই দুর্বলতা ও জড়তাকে জয় করতে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা আয়োজন করেছে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা ‘দ্য ইংলিশ ওরেটরি’। ৯ মে বিকেলে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা কার্যালয়ে কর্মশালার প্রথম সেশন অনুষ্ঠিত হয়। মেন্টর হিসেবে ছিলেন ইংরেজি শিক্ষক ও চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সভাপতি রুমিলা বড়ুয়া।
Visit umafrika.club for more information.
মেন্টর হিসেবে ছিলেন ইংরেজি শিক্ষক ও চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সভাপতি রুমিলা বড়ুয়ামেন্টর রুমিলা বড়ুয়া শুরুতেই সবার কাছে জানতে চান—আপনারা কেন ইংরেজিতে কথা বলতে ভয় পান? আপনাদের মূল ড্রব্যাক বা পিছিয়ে পড়ার কারণটা ঠিক কী? শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত মতামতে একটি বিষয়ই বারবার উঠে আসে—আর তা হলো যথাযথ পরিবেশের অভাব। আমাদের চারপাশের মানুষ বা সারাউন্ডিংস এমন নয়, যেখানে নির্ভয়ে ইংরেজি চর্চা করা যায়। ভুল হওয়ার ভয়ে অনেকেই কথা বলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। জড়তা ভাঙতে রুমিলা বড়ুয়া বলেন, ‘ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে কখনোই বিব্রতবোধ করবেন না। ভুল করাটাই শেখার প্রথম ধাপ।’
রুমিলা বড়ুয়া বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্ধুসভা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিচ্ছে, যেখানে সবাই নিজের মতো করে চর্চা করতে পারবেন। এখানে কেউ কাউকে জাজ বা বিচার করবেন না; বরং সবাই সবাইকে সাহায্য করবেন।’ এই অভয়বাণী অংশগ্রহণকারীদের মনে নতুন আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করে।
রুমিলা বড়ুয়া শিখিয়েছেন গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কীভাবে নিজেকে একজন দক্ষ ‘ওরেটর’ বা বাগ্মী হিসেবে গড়ে তোলা যায়পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও কিছুটা নাটকীয়। বর্তমান যুগে ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোকপাত করার পাশাপাশি রুমিলা বড়ুয়া শিখিয়েছেন গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কীভাবে নিজেকে একজন দক্ষ ‘ওরেটর’ বা বাগ্মী হিসেবে গড়ে তোলা যায়। কীভাবে একজন মানুষ নিজের ব্যক্তিত্বকে ভাষার মাধ্যমে আরও বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করতে পারে, তা হাতে–কলমে শেখানো হয়।
কর্মশালার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক আমেনা রুমি, কার্যনির্বাহী সদস্য তাজরিয়া রশিদ ও বন্ধু তুষার কবির। শেষে অংশগ্রহণকারীদের মতামত নেওয়া হলে তাঁরা অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, নিজেদের জড়তা কাটিয়ে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠতে প্রতি সপ্তাহে যেন অন্তত একটি করে এমন সেশন আয়োজন করা হয়।
বন্ধু, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা